মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক চিকিৎসকের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা স্থানীয় জনজীবনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। শনিবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ডা. আসাদুর রহমানকে লক্ষ্য করে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি আক্রমণ চালায়, যা হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার ভিডিও দেখে সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসা সম্প্রদায় ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
ঘটনার বিবরণ
সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১২:০২ মিনিটে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ১০–১২ জনের একটি দল প্রবেশ করে। তারা জোরপূর্বক ডা. রহমানকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে মুষ্টিবিজ্ঞান, লাথি এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করতে চেষ্টা করে।
ডা. রহমান ঘটনার বর্ণনা দেন:
“আমি শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত এক রোগীকে দেখছিলাম। এর আগে আমি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার দুই আহতকে চিকিৎসা দিয়েছি। একজন ব্যক্তি আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য এগিয়ে এল। আমি তাকে বাইরে অপেক্ষা করতে বললাম। তিনি চেয়ার দখল করতে শুরু করলেন এবং অবাধ্য হয়ে আক্রমণ করলেন।”
হাসপাতালের সূত্র জানায়, আঘাতপ্রাপ্ত রোগী নূর মোহাম্মদ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী নেতা আরিফুজ্জামান মিল্টনের আত্মীয়। এই রোগীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা শুরু হয়ে হামলায় রূপ নেয়।
পুলিশি ব্যবস্থা ও চিকিৎসা সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কাজী আবু আহসান জানান, লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে এবং হাসপাতালের কর্মীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।
মাগুরা শাখা বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) সকল অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতার দাবি করেছে এবং দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মবিধি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন,
“মামলায় ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে মাজারুল ইসলাম গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরার অভিযান চলমান।”
ঘটনার সময়রেখা
| তারিখ ও সময় | ঘটনা বিবরণ |
|---|---|
| ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১২:০২ পিএম | ১০–১২ জনের হামলা, সিসিটিভিতে ধরা পড়ে |
| ১৩ ফেব্রুয়ারি, রাত | মোহাম্মদপুর থানাে মামলা দায়ের, ৯ জন অভিযুক্ত |
| ১৪ ফেব্রুয়ারি, ৪:৩০ পিএম | মাজারুল ইসলাম গ্রেফতার, বাকি আসামির খোঁজ চলছে |
ঘটনাটি মাগুরায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলো জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিঃশঙ্কে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা ও চিকিৎসা সম্প্রদায় একযোগে নিন্দা জানাচ্ছে এবং দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি চাপ সৃষ্টি করছে।
