বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। প্রচলিত প্রথা ভেঙে এবার বঙ্গভবনের দরবার হলের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে এই মাহেন্দ্রক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে। একই দিন সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপি সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
Table of Contents
গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে শপথের আয়োজন
জাতীয় সংসদকে গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করে প্রতীকী ও রাজনৈতিক গুরুত্বারোপ করতেই এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে দেশে জাতীয় সংসদ কার্যকর না থাকলেও সংসদ ভবনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর নতুন সরকারের যাত্রা সংসদ চত্বর থেকেই শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠানের সময়সূচি ও প্রস্তুতি
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ করেছে। সংসদ সচিবালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যৌথভাবে এই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন করতে কাজ করে যাচ্ছে। নিচে ওই দিনের সম্ভাব্য কর্মসূচির একটি রূপরেখা দেওয়া হলো:
| ইভেন্ট/অনুষ্ঠান | সময় (মঙ্গলবার) | স্থান | শপথ বাক্য পাঠ করাবেন |
| সংসদ সদস্যদের শপথ | সকাল ১০:০০ টা | জাতীয় সংসদ ভবন (শপথ কক্ষ) | প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) |
| প্রধানমন্ত্রীর শপথ | বিকাল ৪:৩০ মিনিট | জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা | মহামান্য রাষ্ট্রপতি |
| মন্ত্রিসভার শপথ | বিকাল ৫:০০ টা | জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা | মহামান্য রাষ্ট্রপতি |
সংসদ ভবন চত্বরে সাম্প্রতিক সংস্কার কার্যক্রম
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকাটি রাষ্ট্রীয় সংস্কারের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। সংসদ কার্যকর না থাকলেও গত দেড় বছরে এখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কমিশনের কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল:
সংবিধান সংস্কার কমিশন: অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে এই কমিশন সংসদ ভবন এলাকায় তাদের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করে কাজ পরিচালনা করেছে।
নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন: গণতান্ত্রিক নির্বাচনী কাঠামো ফিরিয়ে আনতে এই কমিশনের কার্যক্রমও এখান থেকেই পরিচালিত হয়েছে।
তদন্ত কমিশন: বিগত তিনটি নির্বাচনের অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিশনের দপ্তরও ছিল সংসদ ভবন চত্বরে।
জাতীয় সনদ স্বাক্ষর: বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানটিও দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত হয়েছিল।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তাৎপর্য
মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ জানিয়েছেন, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের যাবতীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। যদিও সাধারণত রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে শপথ পড়ান, তবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এবার অনুষ্ঠানটি উন্মুক্ত চত্বরে আয়োজিত হচ্ছে। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এই সরকারকে জনগণের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবেই সংসদ চত্বরকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবার ত্রয়োদশ সংসদের এই শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশ পুনরায় পূর্ণাঙ্গ সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে পদার্পণ করবে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানিয়েছেন, দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।
