নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের তারিখ ও দায়িত্ব কে নেবেন?

সাধারণ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—নতুন সংসদ সদস্যরা কবে শপথ নেবেন এবং কে সেই শপথ পড়াবেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, অর্থাৎ ১৫০টির বেশি আসনে জয় পেয়েছে। তবে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয় না; সংবিধান নির্ধারিত কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়।

শপথের সময়সীমা কী?

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ‘সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত’ হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল আনুষ্ঠানিক ফলাফল হিসেবে গণ্য নয়। সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই তিন দিনের সময়সীমা কার্যকর হয়।

সাধারণত বেসরকারি ফল ঘোষণার এক বা দুই দিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে, তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে সময় কিছুটা বাড়তেও পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে নির্বাচনের ছয় দিনের মধ্যেই শপথগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শপথ পড়াবেন কে?

অতীতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। কিন্তু বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংসদ ও স্পিকার না থাকায় বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ এ ক্ষেত্রে দুটি বিকল্প ব্যবস্থা নির্ধারণ করেছে—

১. রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করানোর জন্য একজন ব্যক্তিকে মনোনীত করতে পারেন।
২. যদি মনোনীত ব্যক্তি নির্ধারিত তিন দিনের মধ্যে শপথ করাতে ব্যর্থ হন, তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়াবেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সরকার দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর চায়। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি—যেমন প্রধান বিচারপতি—শপথ পড়াতে পারেন। অন্যথায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার দায়িত্ব পালন করবেন। তবে দ্বিতীয় বিকল্পে অতিরিক্ত তিন দিন অপেক্ষার বিধান রয়েছে।

সরকার গঠনের সাংবিধানিক ধাপ

সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যে সংসদ সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতীয়মান হবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন। অর্থাৎ ৩০০ আসনের সংসদে ন্যূনতম ১৫১টি আসনে জয়ী দল বা জোটের নেতা সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পাবেন।

নিচে সরকার গঠনের ধাপসমূহ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

ধাপপ্রক্রিয়াদায়িত্বপ্রাপ্ত
ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশনির্বাচন কমিশন
তিন দিনের মধ্যে এমপিদের শপথরাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি/প্রধান নির্বাচন কমিশনার
সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে আমন্ত্রণরাষ্ট্রপতি
প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও শপথরাষ্ট্রপতি
মন্ত্রিসভার শপথরাষ্ট্রপতি

শপথের পর ক্ষমতা হস্তান্তর

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যে ক্ষেত্রে কার্যভার গ্রহণের আগে শপথ বাধ্যতামূলক, সেখানে শপথগ্রহণের অব্যবহিত পরই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবেন। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা কার্যকর হবে।

এভাবেই পুরোনো সরকারের ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকারের কাছে হস্তান্তরিত হয়। সংবিধানসম্মত এই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে যে, রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়।