ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সমান্তরাল গণভোটে ভোটার অংশগ্রহণের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, সারা দেশে ভোটার উপস্থিতির হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
দীর্ঘ দেড় বছর পর এই নির্বাচনকে দেশে গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কমিশন মনে করছে, বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও জনগণের উদ্দীপনা প্রকাশ করে। বিশেষ উল্লেখযোগ্য যে, এবারই প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন। প্রবাসীদের ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ, যা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের একটি নতুন মাইলফলক।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৫ জন। এর মধ্যে প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটার প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কমিশন এই বৃহৎ তরুণ ভোটার অংশগ্রহণকে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক হিসাবে দেখছে।
পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রাপ্ত মোট ভোটের মধ্যে বৈধ ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ২৫ শতাংশ। এই পদ্ধতির মাধ্যমে প্রবাসী ভোটার ছাড়াও নির্বাচনে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, কারাগারে থাকা বন্দিরা তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।
নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সারা দেশে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন ছিল। ২৯৯টি আসনে নির্বাচনের ব্যবস্থাপনা এবং ভোট সুষ্ঠু করার জন্য এই প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
নিচের টেবিলে নির্বাচনের প্রধান তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| মোট ভোটার | 12,76,95,185 |
| প্রথমবার ভোটার (তরুণ) | প্রায় 4 কোটি |
| ভোটার উপস্থিতি (সারা দেশ) | 59.44% |
| প্রবাসী ভোটার উপস্থিতি (পোস্টাল ব্যালট) | 80.11% |
| বৈধ পোস্টাল ভোটের হার | 70.25% |
| আসনের সংখ্যা | 299 |
| আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন | প্রায় 9 লাখ |
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে। প্রথমবারের মতো তরুণ ও প্রবাসী ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, দেশের জনগণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী।
