শেরপুর-৩: আজ ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে না

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা থাকা এক প্রার্থীর মৃত্যু ঘটায় এ আসনে ভোট নির্ধারিত দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন নতুন তফসিল ঘোষণা করবে, যা জনসাধারণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের জানানো হবে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “আইন অনুযায়ী কোনো বৈধ প্রার্থী ভোটের আগে মারা গেলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচন স্থগিত বা বাতিল করা হয়। এটি নিশ্চিত করে যে ভোট সুষ্ঠু ও আইনগতভাবে বৈধভাবে অনুষ্ঠিত হয়।”

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর ৭৯(১) ধারা অনুযায়ী, কোনো বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু ঘটলে সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনী কার্যক্রম বাতিল করার দায়িত্ব রাখেন। এরপর নির্বাচন কমিশন নতুন তফসিল ঘোষণা করবেন। নতুন তফসিল প্রকাশের পর পূর্বে বৈধভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া প্রার্থীদের পুনরায় মনোনয়নপত্র জমা বা জামানত দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে নতুন যোগ্য প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র জানায়, শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত হওয়ায় আগামী নির্বাচনী পরিকল্পনা এবং ভোটারদের সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। ভোটারদের যাতে সঠিক তথ্য ও সহায়তা পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।

নিচের টেবিলে ভোট স্থগিত হওয়া আসনের সংক্ষিপ্ত তথ্য দেওয়া হলো:

আসনের নামউপজেলা/এলাকাভোটের তফসিলস্থগিত হওয়ার কারণনতুন তফসিল
শেরপুর-৩শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬এক প্রার্থীর মৃত্যুপরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে

নির্বাচন কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, নতুন তফসিল ঘোষণার পর আগের বৈধ প্রার্থীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচনী দলে থাকবে। তবে নতুন যোগ্য প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। এটি নিশ্চিত করে যে ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, ভোট স্থগিত হওয়ায় শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতীর মানুষ আপাতত ভোটকেন্দ্রে আসেনি। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন তফসিল ঘোষণার পর যথাযথ প্রস্তুতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ হবে।

শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক বিরল ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন যথাযথ সময়ে নতুন তফসিল ঘোষণা করবে এবং স্থানীয় জনগণকে সঠিক তথ্য জানাবে।