পাঁচ বছরের সরকারি বন্ডে স্থিতিশীল রিটার্ন

বাংলাদেশ সরকারের পাঁচ বছরের ট্রেজারি বন্ড (BGTB) মঙ্গলবার মূলত অপরিবর্তিত থেকে স্থিতিশীল বাজার পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই স্থিতিশীলতার পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অব্যাহত তরলতা নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন ডলারের তুলনামূলক স্থিতিশীল বিনিময় হার অন্যতম প্রধান কারণ।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট (BID) থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ নিলামের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের বন্ডের কাট-অফ রিটার্ন—যাকে কার্যকর সুদের হার হিসেবে ধরা হয়—সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ১০.৩২% হয়েছে, যা পূর্ববর্তী নিলামে ১০.৩১% ছিল। অর্থনীতিবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ সামান্য বৃদ্ধি মূলত নিম্ন-ঝুঁকির সরকারি সিকিউরিটিতে স্থিতিশীল চাহিদা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত তরলতার মিলিত প্রভাব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, “জাতীয় নির্বাচনের আগে বেসরকারি খাতের ঋণ চাহিদা কিছুটা কম হওয়ায় ব্যাংকগুলি তাদের অতিরিক্ত তহবিল সরকারি অনুমোদিত সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ করছে।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার বৈদেশিক মুদ্রা হস্তক্ষেপের অংশ হিসেবে ইন্টারব্যাংক মার্কেট থেকে বড় পরিমাণে মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে, যা অভ্যন্তরীণ তরলতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে। কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন যে, প্রবাসী পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রবাহ এবং ডলার ক্রয়ের ফলে সরকারি বন্ডের রিটার্নের স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

মঙ্গলবার সরকার BDT ২০ হাজার কোটি মূল্যের বন্ড ইস্যু করেছে, যা আংশিকভাবে বাজেট ঘাটতি পূরণের উদ্দেশ্যে। নিলামে কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক অংশগ্রহণ করেছে, যেগুলি তাদের অতিরিক্ত তহবিলের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগের পথ খুঁজছিল।

সাধারণ খবরে, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, নির্বাচনের আগে তরলতার প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রা হস্তক্ষেপ মনিটর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত তরলতা এবং বিনিয়োগকারীর সংযমী মনোভাবের কারণে সরকারি বন্ড বাজারে সাময়িক বড় ওঠানামা দেখা সম্ভব নয়।

মঙ্গলবারের বন্ড নিলাম ও বৈদেশিক মুদ্রা হস্তক্ষেপের সারসংক্ষেপ

উপকরণউত্তোলিত অর্থ (BDT)কাট-অফ রিটার্ন (%)কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয় (USD মিলিয়ন)মন্তব্য
৫ বছরের BGTB২০,০০০,০০০,০০০১০.৩২১৭১সীমিত বেসরকারি ঋণ চাহিদার মধ্যে শক্তিশালী বিডিং
কেন্দ্রীয় ব্যাংক FX হস্তক্ষেপ১৭১১১টি ব্যাংক থেকে USD ক্রয়, USD/BDT স্থিতিশীল রাখার উদ্দেশ্যে

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন যে, নির্বাচনের আগের সময়ে তরলতার প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার হস্তক্ষেপ মনিটর করা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই প্রেক্ষাপটে, সরকারি বন্ডের বাজারে কোনো বড় অস্থিরতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা কম।