নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে নারায়ণগঞ্জ-৩, ৭০% কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভোটার উপস্থিতি, ভৌগোলিক অবস্থান, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আইনশৃঙ্খলার পূর্ব ইতিহাস এবং দুর্গম চরাঞ্চলের বাস্তবতা—এসব বিষয় বিশ্লেষণ করেই ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, দুই উপজেলার মোট ২১০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৪৭টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা মোট কেন্দ্রের প্রায় ৭০ শতাংশ। এর মধ্যে সোনারগাঁ উপজেলায় ১৪৩টি কেন্দ্রের ১০৯টি এবং সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে ৬৭টি কেন্দ্রের ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। বাকি ৬৩টি কেন্দ্রকে সাধারণ বা তুলনামূলক ঝুঁকিমুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

নিচে আসনভিত্তিক ঝুঁকির সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—

উপজেলা/অংশমোট কেন্দ্রঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রসাধারণ কেন্দ্রঝুঁকির হার (%)
সোনারগাঁ১৪৩১০৯৩৪৭৬%
সিদ্ধিরগঞ্জ৬৭৩৮২৯৫৭%
মোট২১০১৪৭৬৩৭০%

ঝুঁকি মূল্যায়নে কেন্দ্রগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—লাল (অতি ঝুঁকিপূর্ণ), হলুদ (ঝুঁকিপূর্ণ) ও সবুজ (সাধারণ)। লাল চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দুজন এবং সাধারণ কেন্দ্রে একজন করে সশস্ত্র পুলিশ সদস্য মোতায়েনের প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। প্রত্যেক দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যের কাছে থাকবে আগ্নেয়াস্ত্র ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা, যাতে যে কোনো অনিয়ম তাৎক্ষণিকভাবে নথিভুক্ত করা যায়।

এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। মোবাইল টিম, রিজার্ভ ফোর্স, স্ট্রাইকিং ফোর্স, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা পর্যায়ক্রমে টহল ও তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে প্রস্তুত থাকবেন। বিশেষ করে চরাঞ্চল নুনেরটেকের দুটি এবং চরকিশোরগঞ্জ-চরহোগলার তিনটি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় সেখানে পৃথক স্ট্রাইকিং ফোর্স ও একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-অঞ্চল) মো. ইমরান আহম্মেদ জানিয়েছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। একইসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কাছে থাকবে অস্ত্র ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা।

প্রশাসনের আশা, সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও বহুমাত্রিক নজরদারির মাধ্যমে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারবেন এবং একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।