বগুড়ার নন্দীগ্রামে সেনাবাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, তাজা গুলি এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের তেতুলিয়াগাড়ি এলাকায় এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশজুড়ে চলমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয় বলে জানা গেছে।
অভিযানের বিবরণ ও অস্ত্র উদ্ধার
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি দক্ষ দল তেতুলিয়াগাড়ি এলাকায় অবস্থান নেয়। অভিযানের শুরুতে সন্দেহভাজন আব্দুস ছালাম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের কাছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলে সেখানে লুকানো অবস্থায় একটি উন্নত মানের চায়নিজ পিস্তল ও পাঁচটি তাজা গুলি পাওয়া যায়। এছাড়াও বাড়িটি থেকে ৩৫টি বিভিন্ন ধরনের ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়, যা এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযানের বিস্তারিত তথ্য ও আটকদের পরিচয় নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| অভিযানের স্থান | তেতুলিয়াগাড়ি, ভাটগ্রাম ইউনিয়ন, নন্দীগ্রাম, বগুড়া |
| অভিযানের সময় | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার বিকেল ৪টা |
| অভিযান পরিচালনাকারী | বাংলাদেশ সেনাবাহিনী |
| নেতৃত্বে ছিলেন | মেজর মেহেদী হাসান, ক্যাপ্টেন জিসান ও লে. ফাতিন |
| উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র | ১টি বিদেশি (চায়নিজ) পিস্তল ও ৫টি তাজা গুলি |
| দেশীয় অস্ত্র | ৩৫টি ধারালো অস্ত্র (ছুরি, চাপাতি ও অন্যান্য) |
আটকদের পরিচয়
অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন:
১. আব্দুস ছালাম (৩০): নন্দীগ্রাম উপজেলার তেতুলিয়াগাড়ি এলাকার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে। তার হেফাজত থেকেই মূল আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
২. আবু বক্কর (২৮): একই এলাকার আব্দুস ছাত্তারের ছেলে।
৩. পারভেজ (২৫): পার্শ্ববর্তী শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইউনিয়নের রুপিহার গ্রামের আবু মুসার ছেলে।
আইনি পদক্ষেপ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ আটককৃতদের নন্দীগ্রাম থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ফাতিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর এই ধরনের গোয়েন্দা ভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের পরিমাণ দেখে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এই অস্ত্রগুলো কোনো বড় ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা নাশকতার উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছিল। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে এই চক্রের সাথে আরও বড় কোনো অপরাধী গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে কি না।
