আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননিরাপত্তা রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে। খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) রেজাউল হক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এবারের নির্বাচনে পুলিশ তাদের শটগানে কোনো ধরনের মারণাস্ত্র বা মেটাল বুলেট (লিফবল) ব্যবহার করবে না। মঙ্গলবার দুপুরে যশোরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন।
রাবার বুলেট ব্যবহারের যৌক্তিকতা
সাধারণত দাঙ্গা দমন বা বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে শটগানে দুই ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়—রাবার বুলেট এবং মেটাল লিফবল। লিফবল বা মেটাল বুলেট মানুষের শরীরে বিদ্ধ হলে তা গুরুতর জখম এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। ডিআইজি রেজাউল হক জোর দিয়ে বলেন, পুলিশের মূল লক্ষ্য কোনো নাগরিককে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ইনজুরি করা নয়, বরং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অনেক সময় আত্মরক্ষার্থে বা বিশৃঙ্খলা দমনে দুই ধরনের বুলেটই ব্যবহৃত হতো। তবে এবার মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং অপ্রয়োজনীয় রক্তপাত এড়াতে লিফবল বুলেট সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের কেবল রাবার বুলেট ইস্যু করা হয়েছে, যা প্রাণঘাতী নয় কিন্তু ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর।
নিচে শটগানে ব্যবহৃত গোলাবারুদের পার্থক্য ও এবারের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হলো:
| বুলেটের ধরন | বৈশিষ্ট্য ও প্রভাব | এবারের নির্বাচনে অবস্থান |
| রাবার বুলেট | এটি আঘাত করলে ব্যথা বা সাময়িক জখম হয়, কিন্তু প্রাণঘাতী নয়। | অনুমোদিত ও ইস্যুকৃত |
| লিফবল (মেটাল) | এটি ধাতব হওয়ায় শরীরে বিদ্ধ হলে অঙ্গহানি বা মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। | সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ |
| ব্যবহারের শর্ত | কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই বা ভোটার আক্রান্ত হলে। | কেবল বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য |
| আইনি ভিত্তি | সিআরপিসি (CrPC) ও পিআরবি (PRB) বিধিমালা। | কঠোরভাবে অনুসরণীয় |
পুলিশি পেশাদারিত্ব ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। অতীতে নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ বা ‘ঘুষের খাম’ গ্রহণের যে নেতিবাচক গুঞ্জন ছিল, তা এবার কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। খুলনা রেঞ্জের ৬৪টি থানার পুলিশ সদস্যদের প্রতি আস্থা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, পেশাদারিত্বের বাইরে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। বাহিনীর কোনো সদস্য যদি এমন অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে পুলিশের সম্মান ক্ষুণ্ণ করে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেষ কথা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা
ডিআইজি রেজাউল হক উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে এই প্রার্থনা করেন যেন পুলিশকে রাবার বুলেটও ব্যবহার করতে না হয়। অর্থাৎ, শান্তিপূর্ণভাবে যেন ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি কোনো দুষ্কৃতকারী কেন্দ্র আক্রান্ত করে কিংবা ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়, তবে সিআরপিসি (ফৌজদারি কার্যবিধি) এবং পিআরবি (পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল) বিধি-বিধান অনুসারে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্রিফিংকালে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
