১০ কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি নিয়ে পাচারকারী ধরা পড়ল নারায়ণগঞ্জে

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নারায়ণগঞ্জে এক বিশেষ অভিযানে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে এবং একজন পাচারকারীকে আটক করেছে। এই অভিযান দেশীয় বাজারে অবৈধভাবে শাড়ি বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচার রোধের জন্য পরিচালিত হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযানের সময় নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন পাগলার একটি দল একটি সন্দেহজনক কাভার্ডভ্যান থামিয়ে তল্লাশি চালায়।

তল্লাশির সময় উদ্ধারকৃত ভারতীয় শাড়ির পরিমাণ এবং মূল্য নিম্নরূপ:

জব্দকৃত পণ্যের ধরণআনুমানিক পরিমাণআনুমানিক মূল্য (বাংলাদেশি টাকা)
ভারতীয় শাড়িহাজার হাজার9,96,70,000

কোস্ট গার্ড জানায়, এই শাড়িগুলো শুল্ক কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আনা হয়েছিল এবং দেশের বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ছিল। অভিযানে ব্যবহৃত কাভার্ডভ্যানসহ একজন পাচারকারীকে আটক করা হয়। জব্দকৃত শাড়ি বর্তমানে বংশাল সার্কেল কাস্টমসের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

অপরাধে ব্যবহৃত কাভার্ডভ্যান এবং আটক ব্যক্তি ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক আরও জানান, “চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য পাচার রোধের জন্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। আমরা দেশীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও শুল্ক আইন রক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত সতর্ক থাকব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

নারায়ণগঞ্জে এই ধরনের অভিযান স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যাতে অবৈধভাবে পণ্য আনা বা বিক্রি করার চেষ্টা না করা হয়। বিশেষ করে শুল্ক ফাঁকির মাধ্যমে পণ্যের অবৈধ আমদানি রোধ করা দেশের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং বৈধ ব্যবসাকে উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই অভিযান দেশের কোস্ট গার্ডের সার্বিক তৎপরতা এবং সমন্বিত কার্যক্রমের উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও নিয়মিত টহল পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ পাচার চক্র শনাক্ত করা এবং আটক করা সম্ভব হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতি ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।