চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ নির্বাচনী কার্যক্রম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে একটি সমন্বিত অপারেশন্স কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে। এই রুমে নির্বাচনের দিনগুলোতে মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং পার্টি ও মাঠপর্যায়ের পুলিশ বাহিনী পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত সমন্বয় করা হবে।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অবস্থিত এই রুম পরিদর্শন করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আহসান হাবীব পলাশ। পরিদর্শনকালে তারা অপারেশন্স রুমে স্থাপিত বডি-ওর্ন ক্যামেরা ওয়ার্কস্টেশন, লাইভ লোকেশন মনিটরিং সিস্টেম এবং ডিজিটাল অপারেশনাল ম্যাপসহ নির্বাচনকালীন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করেন।
ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, “আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের প্রস্তুতি, সক্ষমতা ও পেশাদারিত্বকে আরও দৃঢ় করেছে। এটি নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।”
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোট ১১৯টি মোবাইল টিম এবং ৩০টি স্ট্রাইকিং পার্টি নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার ১৭টি থানার সকল ওসি ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রিয়েল-টাইমে প্রতিটি টিমের কার্যক্রম মনিটর করতে সক্ষম হবেন।
মাঠে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত ৪৬৯টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা অনলাইনে সংযুক্ত রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করবে। প্রয়োজনমতো সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া সম্ভব হবে।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল বলেন, “নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সব কর্মকর্তা ও ফোর্সের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ওয়াকিটকি সাব-স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”
নিচের টেবিলে অপারেশন্স কন্ট্রোল রুমের মূল সুবিধাসমূহ তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| মোবাইল টিম | ১১৯টি |
| স্ট্রাইকিং পার্টি | ৩০টি |
| থানার সংখ্যা | ১৭টি |
| বডি-ওর্ন ক্যামেরা | ৪৬৯টি অনলাইন সংযুক্ত |
| লাইভ লোকেশন মনিটরিং | গুগল ম্যাপের মাধ্যমে দ্রুত রুট নির্ধারণ |
| সমন্বয়কারী সংস্থা | পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার, ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রিসাইডিং অফিসার |
অপারেশন্স রুম থেকে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং টিমের কার্যক্রম মনিটর করে প্রয়োজনমতো দ্রুত সরাসরি নির্দেশনা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এটি নিশ্চিত করবে যে চট্টগ্রামে নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে। জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ সহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
