জাপান পুনরায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া চালু করেছে। এটি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে।
টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কম্পানি (টেপকো) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিগাতা প্রদেশে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় পুনরায় চালু করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রিয়্যাক্টর চালুর প্রথম উদ্যোগ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল একটি অ্যালার্ম-সংক্রান্ত সমস্যা উদ্রেকের কারণে।
২০১১ সালের ফুকুশিমা পারমাণবিক দূর্ঘটনার পর জাপান প্রায় সব পারমাণবিক কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছিল। ফুকুশিমার তিনটি রিয়্যাক্টরের গলনের পেছনে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির প্রভাব ছিল। এরপর থেকেই কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া কার্যত অচল অবস্থায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান আবার পারমাণবিক শক্তির দিকে ঝুঁকেছে, কারণ দেশটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার, বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ চাহিদা এবং অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাচ্ছে।
টেপকোর কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, ২১ জানুয়ারি কেন্দ্রটির সাতটি রিয়্যাক্টরের একটি চালুর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু পরের দিন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার একটি অ্যালার্ম সক্রিয় হওয়ায় তা বন্ধ করতে হয়। পরে তদন্তে দেখা যায়, একটি কেবলের মধ্য দিয়ে বিদ্যুতের সামান্য পরিবর্তন অ্যালার্মটি চালু করেছিল, যা নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নয়। এরপর অ্যালার্মের সেটিংস সমন্বয় করা হয় এবং রিয়্যাক্টরটি পুনরায় নিরাপদভাবে পরিচালনার যোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
টেপকোর ঘোষণা অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন সম্পন্ন হলে রিয়্যাক্টরটি ১৮ মার্চ বা তার পর থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি জাপানের নব নির্বাচিত রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, যিনি দেশীয় শিল্প ও উৎপাদন ধরে রাখতে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারকে সমর্থন করছেন।
নিম্নে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া কেন্দ্রের সংক্ষিপ্ত তথ্য দেওয়া হলো:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| অবস্থান | নিগাতা প্রদেশ, জাপান |
| পরিচালনকারী প্রতিষ্ঠান | টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কম্পানি (TEPCO) |
| মোট রিয়্যাক্টর সংখ্যা | ৭ |
| পুনরায় চালু হওয়া রিয়্যাক্টর | ১ (প্রাথমিক পর্যায়) |
| সম্ভাব্য বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু | ১৮ মার্চ ২০২৬ |
| কার্যক্রম স্থগিতের কারণ | পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অ্যালার্ম (নিরাপদ সীমার মধ্যে) |
| পুনর্নির্মাণের প্রেক্ষাপট | ২০১১ ফুকুশিমা দুর্ঘটনা পরবর্তী নিরাপত্তা মান |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাপানের এই পদক্ষেপ শুধু দেশীয় বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাবে না, বরং আন্তর্জাতিকভাবে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
