বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডে নতুন করে যুক্ত হলেন গীতিকবি, সুরকার ও সংগীত পরিচালক প্রিন্স মাহমুদ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনে বোর্ডের পুনর্গঠিত সদস্য তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক রফিকুল আনোয়ার রাসেলও নতুন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এর আগে ঘোষিত ১৫ সদস্যের কমিটি থেকে ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়ান চলচ্চিত্র পরিচালক খিজির হায়াত খান এবং চলচ্চিত্র সম্পাদক ইকবাল এহসানুল কবির। তাঁদের শূন্য পদেই প্রিন্স মাহমুদ ও রফিকুল আনোয়ার রাসেলকে মনোনীত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ও পেশাজীবীদের সমন্বয়ে বোর্ডকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করার লক্ষ্যেই এই পুনর্গঠন।
Table of Contents
বোর্ডের কাঠামো ও নেতৃত্ব
নবগঠিত সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব/সচিব। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান। বোর্ডে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নারী ও শিশু বিষয়ক সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
নিচে বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ ও দায়িত্বের সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| পদবি | দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি/পদ | প্রধান দায়িত্ব |
|---|---|---|
| চেয়ারম্যান | তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব/সচিব | নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সার্বিক তত্ত্বাবধান |
| সদস্যসচিব | ভাইস চেয়ারম্যান, প্রাক্তন সেন্সর বোর্ড | প্রশাসনিক সমন্বয় ও কার্যক্রম পরিচালনা |
| সদস্য | প্রিন্স মাহমুদ | সৃজনশীল ও সংগীতভিত্তিক মূল্যায়ন |
| সদস্য | রফিকুল আনোয়ার রাসেল | চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রযোজনা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মতামত প্রদান |
| অন্যান্য সদস্য | বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও চলচ্চিত্র সংগঠনের প্রতিনিধি | নীতিমালা অনুযায়ী সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ |
নতুন বোর্ডের প্রেক্ষাপট
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘদিনের ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড’-এর কার্যক্রমের অবসান ঘটে। এর পরিবর্তে অধিক স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড’ গঠন করে সরকার। নতুন কাঠামোর লক্ষ্য হলো চলচ্চিত্রকে নিষিদ্ধ বা কাটছাঁটের পরিবর্তে বয়সভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া—যা আধুনিক চলচ্চিত্র নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বোর্ডের এক সদস্য জানিয়েছেন, পুনর্গঠনের পর আজ থেকেই নিয়মিতভাবে চলচ্চিত্র পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা একাধিক চলচ্চিত্র ধাপে ধাপে দেখা ও মূল্যায়ন করা হবে।
প্রিন্স মাহমুদের অন্তর্ভুক্তির তাৎপর্য
বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীত ও আধুনিক গানের জগতে প্রিন্স মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত নাম। তাঁর অন্তর্ভুক্তি বোর্ডে সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির পরিধি বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংগীত, গীতরচনা ও সাংস্কৃতিক বোধের সমন্বয়ে চলচ্চিত্রের নান্দনিক মূল্যায়নে তিনি ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।
চলচ্চিত্র অঙ্গনের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, অভিজ্ঞ নির্মাতা ও সৃজনশীল ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে গঠিত এই বোর্ড চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য ইতিবাচক দিকনির্দেশনা দেবে। বয়সভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস, সামাজিক সংবেদনশীলতা এবং শিল্পস্বাধীনতার ভারসাম্য রক্ষাই হবে নতুন বোর্ডের বড় চ্যালেঞ্জ।
সার্বিকভাবে বলা যায়, নতুন সদস্য সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড একটি কার্যকর, সময়োপযোগী ও বহুমাত্রিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার পথে এগোচ্ছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মহলে এখন নজর—এই বোর্ড কতটা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারে এবং দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে কীভাবে এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়।
