ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি উন্মোচন

ইরান সম্প্রতি একটি নতুন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি উন্মোচন করেছে, যা দেশটির সামরিক সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে একটি স্পষ্ট কৌশলগত বার্তা বহন করছে। এই ঘোষণা করা হয় বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপস (IRGC) কর্তৃক।

উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান স্টাফ মেজর জেনারেল আবদুল রহমান মুসাভি, IRGC এর এ্যারোস্পেস বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাঈদ মজিদ মুসাভি এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা। ঘাঁটির পরিদর্শনের সময় তারা ঘাঁটির অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন ব্যবস্থা, কার্যক্রম প্রস্তুতি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা যাচাই করেন।

সেনাবাহিনী প্রধান অনুষ্ঠান চলাকালীন বক্তৃতায় বলেন, “গত জুন মাসে ইসরাইলের সঙ্গে দ্বাদশ দিনের সংঘাতের পর আমরা আমাদের সামরিক কৌশল মূলত পুনর্গঠন করেছি। শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে আমরা এখন আক্রমণাত্মক ও প্রতিরোধমূলক সক্ষমতাও সমানভাবে শক্তিশালী করছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের লক্ষ্য এখন বৃহৎ মাত্রার দ্রুত অভিযান পরিচালনা, অসাম্য যুদ্ধ কৌশল প্রয়োগ এবং প্রতিপক্ষের আধুনিক সামরিক পরিকল্পনাগুলো কার্যকরভাবে নিরস্ত করা।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সাধারণত পাহাড়ী এলাকা বা ঘনভিত্তিক নিরাপদ স্থানে নির্মিত এই ঘাঁটিগুলো বিমান হামলা এবং ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ থেকে রক্ষা প্রদান করে এবং দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা নিশ্চিত করে, যা প্রতিপক্ষকে প্রাক-প্রত্যাঘাতমূলক কৌশল পরিকল্পনা করা কঠিন করে তোলে।

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি অঞ্চলে আরও যুদ্ধজাহাজ, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এবং সেনা মোতায়েন করেছে। যদিও কূটনৈতিক আলোচনা নির্ধারিত হয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করছেন যে, আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে এড়ানো যাবে না।

সুপ্রীম লিডার আয়াতোল্লা আলী খামেনিও সতর্ক করেছেন যে, ইরানের উপর সরাসরি মার্কিন হামলা বৃহৎ আকারের আঞ্চলিক সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও তীব্র করবে।

নিচের টেবিলে ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কৌশলগত বৈশিষ্ট্যগুলো উপস্থাপন করা হলো:

বৈশিষ্ট্যবর্ণনা
অবস্থানপাহাড়ী বা গভীর ভূগর্ভস্থ এলাকা
প্রধান উদ্দেশ্যবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষা
কৌশলগত সুবিধাগোপন স্থাপনা ও দ্রুত উৎক্ষেপণ ক্ষমতা
সামরিক গুরুত্বপ্রতিরোধ ও পাল্টা হামলার সক্ষমতা প্রদর্শন
আঞ্চলিক প্রভাবপ্রতিপক্ষের কৌশলগত পরিকল্পনা জটিল করা

সার্বিকভাবে, এই ঘাঁটির উন্মোচন কেবল একটি সামরিক স্থাপনার সূচনা নয়; এটি ইরানের কৌশলগত অবস্থান, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং মার্কিন ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।