ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার এন’গোলো কন্তে এখন তুরস্কের শীর্ষ ক্লাব ফেনারবাচের জার্সি পরবেন। দীর্ঘ কিছু প্রশাসনিক জটিলতার পর শেষ পর্যন্ত কন্তের ট্রান্সফার সম্পন্ন হয়েছে, যা ক্লাবের মাঝমাঠে অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
ক্লাবের সভাপতি সাদেত্তিন সারান এক বিবৃতিতে জানান, “এই ট্রান্সফার সফল করতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সব বাধা কাটিয়ে আমরা কন্তেকে দলে ভেড়াতে পেরেছি।” তবে চুক্তির আর্থিক শর্তাবলি প্রকাশ করা হয়নি।
৩৪ বছর বয়সী কন্তে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল ইত্তিহাদ থেকে ফেনারবাচেতে যোগ দিয়েছেন। মঙ্গলবার এক পর্যায়ে এই চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। ফেনারবাচের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, আল ইত্তিহাদের প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে ট্রান্সফার শুরুতে সম্পন্ন করা যাচ্ছিল না। তবে পরে সৌদি ক্লাবটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদায়ী বার্তা দিয়ে জানায়, তারা কন্তের বাকি চুক্তির মেয়াদ বিক্রি করতে সম্মত হয়েছে।
কন্তে ২০২৩ সালে আল ইত্তিহাদে যোগ দেন। সম্প্রতি তিনি ফ্রান্স জাতীয় দলে ফিরেছেন এবং নভেম্বর মাসে ইউক্রেনের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয়ে তার ৬৫তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জয়ে তিনি অন্যতম মূল নায়ক ছিলেন।
ফেনারবাচে গত ১২ বছর পর তুরস্কের লিগ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছে। ক্লাব বিশ্লেষকরা মনে করেন, কন্তের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দলের মাঝমাঠকে আরো শক্তিশালী করবে। চলতি ট্রান্সফার উইন্ডোতে ফরাসি আরেক মিডফিল্ডার মাতেও গেন্দুজিকেও দলে নেওয়া হয়েছে, যা শিরোপা লড়াইয়ে ফেনারবাচের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।
নিচের টেবিলে কন্তের সাম্প্রতিক ফুটবল কেরিয়ার ও প্রধান অর্জন সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বছর | ক্লাব/দল | প্রধান ঘটনা/উপলব্ধি |
|---|---|---|
| 2018 | ফ্রান্স জাতীয় দল | বিশ্বকাপ জয়, প্রধান মিডফিল্ডার |
| 2023 | আল ইত্তিহাদ | সৌদি প্রো লিগে যোগদান |
| 2023-2026 | ফেনারবাচে | তুরস্কের লিগ শিরোপা লড়াইয়ে যোগদান |
| 2025 | ফ্রান্স জাতীয় দল | ৬৫তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ, ইউক্রেনের বিপক্ষে ৪-০ জয় |
ফেনারবাচের কোচিং স্টাফ আশা করছেন, কন্তের যোগদানের ফলে দলটি লিগ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। বিশেষ করে তার অভিজ্ঞতা এবং মাঠের দৃষ্টিভঙ্গি নতুন খেলোয়াড়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার মাধ্যম হবে।
এছাড়া, কন্তের যোগদানের মাধ্যমে ফেনারবাচে মিডফিল্ডে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও কৌশলগত শক্তি তৈরি করতে পারবে, যা দলের লিগ শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে আরও বাস্তবসম্মত করবে।
