খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:২৩ এএম

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের আনা গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, জাহানারার উত্থাপিত চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুটির সত্যতা মিলেছে। তদন্ত কমিটির পর্যালোচনায় সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অসদাচরণ ও অপেশাদার আচরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বছরের ৭ নভেম্বর, যখন জাহানারা আলম একটি ইউটিউব সাক্ষাৎকারে মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অসদাচরণের অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে বিসিবি ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি তারিক উল হাকিমকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ২ ফেব্রুয়ারি কমিটি তাদের প্রতিবেদন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।
তদন্ত কমিটিতে দেশের আইনি ও ক্রীড়া জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। নিচে কমিটির সদস্য ও তদন্তের মূল ফলাফল একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের নাম | বিস্তারিত তথ্য |
| তদন্ত কমিটির প্রধান | সাবেক বিচারপতি তারিক উল হাকিম |
| কমিটির সদস্যবৃন্দ | অধ্যাপক ড. নাঈমা হক, ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান, ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা ও রুবাবা দৌলা। |
| অভিযোগের সংখ্যা | ৪টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ |
| প্রমাণিত অভিযোগ | ২টি (অসদাচরণ ও হয়রানি সংক্রান্ত) |
| অভিযুক্তের পদবি | সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার (বিসিবি নারী দল) |
| বর্তমান অবস্থা | চুক্তির মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে |
বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, মঞ্জুরুল ইসলামের কিছু আচরণ পেশাদার মানদণ্ডের সাথে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তদন্ত কমিটির মতে, তাঁর কর্মকাণ্ড সুপ্রিম কোর্টের ২০০৯ সালের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী হয়রানি ও অসদাচরণের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে। যদিও মঞ্জুরুল ইসলামের সাথে বিসিবির আনুষ্ঠানিক চুক্তির মেয়াদ গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হয়ে গেছে, তবুও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় বোর্ড তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিসিবি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, হয়রানি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে তারা ‘শূন্য সহনশীলতা’ (Zero Tolerance) নীতি বজায় রাখবে। আইনজীবীদের পরামর্শ অনুযায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সাথে ভবিষ্যতে নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে বোর্ড।
হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, বিসিবির উইমেন্স উইংয়ের চেয়ারপারসন রুবাবা দৌলাকে প্রধান করে একটি স্থায়ী ‘অভিযোগ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি নিয়মিতভাবে খেলোয়াড়দের সুবিধা-অসুবিধা এবং কোনো ধরনের বৈষম্য বা হয়রানির অভিযোগ পর্যলোচনা করবে। বিসিবি মনে করে, এই পদক্ষেপের ফলে নারী ক্রিকেটাররা নির্ভয়ে তাদের প্রতিভা বিকাশের পরিবেশ পাবে এবং দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।
একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে জাহানারার এই সাহস এবং বোর্ডের ত্বরিত পদক্ষেপ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
মন্তব্য