চুয়াডাঙ্গায় স্বর্ণসদৃশ প্রাচীন মূর্তি উদ্ধার

আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের পল্লী খোর্দা গ্রামে এক ব্রাসের ঘরাণা থেকে পাঁচটি স্বর্ণসদৃশ ধাতব মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশ মিলিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এই অমূল্য নিদর্শন উদ্ধার করা হয়। তবে, প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা গেছে যে মূর্তিগুলি আসলে স্বর্ণের নয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মাটি খুঁড়তে গিয়ে আবুল মুজাম, চিনি উদ্দিনের ছেলে, তার নতুন বাড়ির জন্য জমি খুঁড়ার সময় একটি পুরনো ব্রাসের ঘরাণা পেয়েছিলেন। পরে তিনি সেটি নিজের বাড়ির আঙিনায় পুনরায় পুঁতে রাখেন।

গোপন সূত্রে সংবাদ পেয়ে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি দল আলমডাঙ্গা থানার পুলিশসহ মুজামের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় ঘরাণার মধ্যে লাল কাপড়ে মোড়ানো পাঁচটি ধাতব মূর্তি পাওয়া যায়। মূর্তিগুলির উজ্জ্বল স্বর্ণসদৃশ রূপ দেখে স্থানীয়রা প্রথমে মনে করেছিলেন যে এটি স্বর্ণের ধন।

ঘটনাস্থল দ্রুত পুলিশ ও বিজিবি কর্তৃপক্ষ দ্বারা সংরক্ষিত করা হয়। প্রাথমিক বিশ্লেষণে নিশ্চিত করা হয় যে, মূর্তিগুলি স্বর্ণ নয়, বরং ৫৩ থেকে ৬০ শতাংশ তামা সমৃদ্ধ ধাতব মিশ্রণে তৈরি। চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, “স্বর্ণের আবরণ থাকার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মূর্তিগুলির প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব থাকতে পারে। সংরক্ষণ পদ্ধতি, মোড়ানো ধরণ ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করে মূর্তিগুলির ঐতিহাসিক তাৎপর্য নির্ধারণ করা হবে। মূল্যায়নের পর এসব মূর্তি সরকারি সংরক্ষণে হস্তান্তর করা হবে।

উদ্ধারকৃত মূর্তিগুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

ক্র. নংমূর্তির ধরনধাতব সংমিশ্রণ (%)রঙমোড়ানো কাপড়
দেবী৫৩স্বর্ণসদৃশলাল কাপড়ে মোড়া
দেবী৫৫স্বর্ণসদৃশলাল কাপড়ে মোড়া
দেবী৫৮স্বর্ণসদৃশলাল কাপড়ে মোড়া
দেব৬০স্বর্ণসদৃশলাল কাপড়ে মোড়া
দেব৫৬স্বর্ণসদৃশলাল কাপড়ে মোড়া

স্থানীয় প্রত্নতাত্ত্বিকদের মূল্যায়নের পর মূর্তিগুলি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, এই নিদর্শনগুলো ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কারণে যথাযথ সতর্কতা ও সংরক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালনা করা অপরিহার্য।