আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর ও নদী অববাহিকায় নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে শীতকালীন ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা হ্রাস পেতে পারে, যা নৌযান পরিচালনায় ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। নৌযান মালিক, নাবিক এবং যাত্রীদের সাবধান থাকার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর ও নদী অববাহিকায় দৃষ্টিসীমা প্রায় ৪০০ মিটার হতে পারে। তবে কিছু এলাকায় এটি আরও কমে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত বা অযত্নে নৌযান চালানো বিপজ্জনক।
নৌযান চলাচলে বিশেষ নির্দেশনা:
নাবিকদের অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে নৌযান পরিচালনা করা।
ধীরে ধীরে নৌযান চালানো এবং দৃষ্টিসীমা অনুযায়ী নেভিগেশন করা।
প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নৌযান থামিয়ে রাখার প্রস্তুতি রাখা।
নদী তীরবর্তী এলাকার যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া।
নিচের টেবিলে ঘন কুয়াশার কারণে প্রভাবিত মূল অঞ্চলের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:
| জেলা/অঞ্চল | দৃষ্টিসীমা অনুমান (মিটার) | কুয়াশার তীব্রতা | সতর্কতা প্রয়োজনীয়তা |
|---|---|---|---|
| ঢাকা ও আশেপাশের নদী | ৩৫০–৪০০ | হালকা থেকে মাঝারি | উচ্চ |
| চট্টগ্রাম অঞ্চলের নদী | ৪০০–৫০০ | মাঝারি | মাঝারি |
| রাজশাহী ও বরিশাল | ৩৫০–৪৫০ | হালকা থেকে মাঝারি | উচ্চ |
| খুলনা অঞ্চলের নদী | ৩৫০–৪০০ | ঘন | উচ্চ |
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, ঘন কুয়াশার সময় দৃষ্টিসীমা হঠাৎ কমতে পারে, যা নাবিকদের দিকনির্দেশনা হারানোর সম্ভাবনা বাড়ায়। নদীতে অপ্রয়োজনীয় তাড়া বা দ্রুতগতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যাত্রীদেরও সতর্ক থাকা এবং নাবিকের নির্দেশনা মানা জরুরি।
নিরাপদ নৌযাত্রার জন্য নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে নাবিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নদীর তীরবর্তী সাধারণ মানুষকে কুয়াশার সময় নদীর কাছে না যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন সতর্কবার্তা বা আপডেট প্রকাশ করতে পারে।
ঘন কুয়াশা সাধারণত শীতকালীন সময়ে বেড়ে যায় এবং এটি নদী অববাহিকায় নাবিক ও যাত্রীদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। তাই সময়মতো সতর্ক হওয়া এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মানা নৌযাত্রার জন্য অপরিহার্য।
