তেজগাঁওয়ে কিশোর বিজয়ের রহস্যমৃত্যু

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থেকে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ১৭ বছর বয়সী মো. বিজয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিজয় ছলিম ইন্ডাস্ট্রিজে ক্লিনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনাটি শিল্পাঞ্চলের মানুষের মধ্যে শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টিকারী হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ ও পরিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিজয় ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর মহাখালী সাততলা বস্তিতে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। গত বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তার পরিবার বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বাদল গোমস্তা সংবাদসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ছলিম ইন্ডাস্ট্রিজের পেছনের সড়ক ভবনের পাশে অবস্থিত জেনারেটরের রুম থেকে বিজয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বিজয়কে হত্যা করে রুমের ভেতরে রাখা হয়েছিল। তদন্ত কর্মকর্তা মো. বাদল গোমস্তা জানিয়েছেন, পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী একই প্রতিষ্ঠানের পিয়ন রাজু হত্যাকাণ্ডে জড়িত। এ বিষয়ে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ রাজুকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

নিম্নলিখিত টেবিলে ঘটনা সম্পর্কিত প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

তথ্যের ধরণবিবরণ
নিহতের নামমো. বিজয় (১৭ বছর)
পেশাক্লিনার, ছলিম ইন্ডাস্ট্রিজ
জন্মস্থানমুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ জেলা
বসবাসস্থলমহাখালী সাততলা বস্তি, ঢাকা
নিখোঁজের তারিখ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬
মরদেহ উদ্ধার তারিখ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত
উদ্ধার স্থানছলিম ইন্ডাস্ট্রিজের পেছনের জেনারেটর রুম, তেজগাঁও
মৃতদেহে চিহ্নমাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত
সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনরাজু (ইন্ডাস্ট্রিজের পিয়ন)
থানার দায়িত্বে তদন্তকারী কর্মকর্তামো. বাদল গোমস্তা, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা

এ ঘটনায় স্থানীয় মানুষ ও কর্মচারীরা গভীর শোকে এবং আতঙ্কিত। পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে।

বিজয়ের পরিবার ও প্রতিবেশীরা হত্যাকাণ্ডকে নিন্দা জানিয়ে বলেন, “দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।” তারা আশা করছেন, অপরাধীকে শাস্তি পেতে দেরি হবে না এবং বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দ্রুত হবে।