রাজধানীর উত্তরা–৯ নম্বর সেক্টর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় পুলিশের একটি টিম তাঁকে তার বাসা থেকে আটক করে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পেছনে শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, সাফিকুর রহমানকে শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মামলাটি সদর দফতরে রেজিস্টার করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত এমডিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাফিকুর রহমানের বাসায় একটি শিশু গৃহকর্মী কাজ করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই শিশুকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং রাতেই তাকে আটক করে।
এ ঘটনায় আদালত গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির জন্য রিমান্ডের আবেদন বিবেচনা করবে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, মামলাটির তদন্তের অংশ হিসেবে সাফিকুর রহমানের বাসা ও অন্যান্য সম্পত্তি তল্লাশি করা হবে এবং সম্ভাব্য সাক্ষী ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় শিশুটি বাসায় একাই ছিল না। অন্যান্য গৃহকর্মী ও প্রতিবেশীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, অনেকদিন ধরে শিশুটিকে নির্যাতন করা হতো। পরিবার অভিযোগ করেন, তাদের repeated অনুরোধ সত্ত্বেও বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
প্রাথমিক তথ্য টেবিল:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি | সাফিকুর রহমান, এমডি ও সিইও, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস |
| গ্রেপ্তারের স্থান | উত্তরা–৯, ঢাকা |
| গ্রেপ্তারের সময় | রোববার রাত সাড়ে ১০টা |
| অভিযোগ | শিশু গৃহকর্মীকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন |
| মামলা দায়ের আইন | শিশু নির্যাতন দমন আইন |
| তদন্তকারী থানা | উত্তরা পশ্চিম থানা |
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এই ঘটনা সামাজিক ও মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। গৃহকর্মী ও শিশু শ্রমের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শিশুর পরিবার জানিয়েছে, তারা আইনের সর্বোচ্চ সহায়তা চাইছেন এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির প্রত্যাশা করছেন। পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, তদন্ত চলাকালীন কোনও ধরনের প্রভাবশালী ব্যক্তি বা অবস্থানই আইনের উপর প্রভাব ফেলতে পারবে না।
এ ঘটনায় শিশুদের সুরক্ষা ও গৃহকর্মী নিরাপত্তার বিষয়ে নতুন করে সচেতনতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলা যথাযথভাবে পরিচালিত হলে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
