স্বরাষ্ট্র কর্মকর্তার ফ্ল্যাট ও জমি জব্দের নির্দেশ

ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিষ্কৃত জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদের নামে থাকা দুটি নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট এবং সংশ্লিষ্ট জমি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের ভিত্তিতে কার্যকর করা হচ্ছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানিয়েছেন, দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ এসব সম্পদ জব্দের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়েছে যে, শরীফ মাহমুদ ও তার সহযোগীরা ঢাকার মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতা মৌজায় একটি ১০ তলা ভবন নির্মাণ করছেন। এই ভবনের দুটি নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট ও সংশ্লিষ্ট জমি হস্তান্তর বা বিক্রির চেষ্টা চলছে।

দুদক আদালতে উল্লেখ করেছেন যে, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই সম্পদ স্থানান্তর, বিক্রয় বা অন্য কোনো ধরনের লেনদেনে ব্যবহার করা যাবে না। এই কারণে সম্পদগুলো জব্দের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

আদালতে দাখিলকৃত তথ্যানুযায়ী, ফ্ল্যাট ও জমির আনুমানিক মূল্য নিম্নরূপ:

সম্পদের ধরন অবস্থান অনুমানিত মূল্য (টাকা)
নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট ২টি মিরপুর, সেনপাড়া ৬০,০০,০০০
ফ্ল্যাটের জমি মিরপুর, সেনপাড়া ১৫,৭৯,৪৫৮

দুদকের আবেদনে আরও বলা হয় যে, এই সম্পদ হস্তান্তর বা বিক্রয়ের মাধ্যমে মামলার প্রমাণাদি লোপ পেতে পারে। তাই তদন্তের স্বার্থে এবং সম্ভাব্য সম্পদের অবৈধ হস্তান্তর রোধের জন্য আদালত সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন।

দুদক এবং আদালতের কর্মকর্তা উভয়ই বলছেন, এই জব্দের নির্দেশনা শুধুমাত্র তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তদন্ত শেষ হলে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতির ক্ষেত্রে ন্যূনতম সতর্কতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি সম্পদের উচ্ছৃঙ্খল হস্তান্তর রোধের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

শরীফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদক ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মামলা দায়ের করেছে, যার মধ্যে অভিযোগ রয়েছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও পদদলের অপব্যবহার। বর্তমানে এই মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে, এবং আদালতের এই জব্দ আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।