জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম রোধে রূপগঞ্জ উপজেলার ভূলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে। শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় শুরু হওয়া এই অভিযান রবিবার ভোর ৪টা পর্যন্ত চলে। অভিযানের সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে।
পূর্বাচল সেনা ক্যাম্পের সূত্রে জানা যায়, অভিযানটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছিল। প্রধান সন্দেহভাজন মোঃ কাওসেরসহ দুইজনকে ঘটনাস্থলেই আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে জব্দকৃত সামগ্রীগুলোর বিস্তারিত নিম্নরূপ:
| ক্রমিক | গ্রেপ্তারকৃতের নাম | বয়স | পিতার নাম | জব্দকৃত সামগ্রী |
|---|---|---|---|---|
| ১ | মোঃ কাওসের | ২৭ | মোঃ হারুন মিয়া | বিদেশি পিস্তল, ১ রাউন্ড লাইভ গুলি, ডামি পিস্তল |
| ২ | শ্রী রবি দাস | ৩৮ | সীতারাম দাস | দুইটি ওয়ান-শট শটগান |
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোঃ কাওসেরের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানা এলাকায় আগেও একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে অস্ত্র ও চুরিসহ নানা অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর দুই গ্রেপ্তারকৃতকে রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সাবজেল হোসেন জানিয়েছেন, “সেনাবাহিনী থেকে গ্রেপ্তারকৃতদের গ্রহণ করেছি। জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারু সম্পর্কিত মামলার তদন্ত আইনমাফিক প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নির্বাচনের সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
সেনাবাহিনী জানায়, এই অভিযান মূলত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে। স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভূলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন প্রাকৃতিক ও সজাগ পদক্ষেপ নির্বাচনের আগে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই ধরনের অভিযানের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সেনাবাহিনী নিশ্চিত করতে পারে যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে বাধাগ্রস্ত হবে না এবং সাধারণ জনগণ নিরাপদে ভোট দিতে পারবে।
