তাজমহল হীরার কারণে আন্তর্জাতিক বিতর্ক

বিনোদন ও ঐতিহাসিক সম্পদ সংক্রান্ত একটি ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ-অস্ট্রেলীয় অভিনেত্রী মার্গট রবিকে তার আসন্ন চলচ্চিত্র ‘উদারিং হাইটস’–এর প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে একটি চোখধাঁধানো নেকলেস পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। নেকলেসটির কেন্দ্রবিন্দু ছিল ৪০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক ‘তাজমহল হীরা’, যা একসময় মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নূর জাহানের মালিকানাধীন ছিল। হীরাটির গায়ে খোদাই করা ফার্সি লিপি আজও সেই প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে।

তবে এই গয়না মার্গট রবির গলায় দেখতে পেয়ে ভারতের নাগরিক ও নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ফরাসি জুয়েলারি হাউস কার্তিয়েরকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। সমালোচকেরা দাবি করছেন, ভারতের ঔপনিবেশিক শাসনের সময় এই হীরাটি দেশ থেকে অনৈতিকভাবে বের করে নেওয়া হয়েছিল।

তাজমহল হীরার ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

বছর/পর্বঘটনা
১৬২৭ খ্রিস্টাব্দনূর জাহানের মালিকানাধীন তাজমহল হীরার উল্লেখ।
ঔপনিবেশিক কালভারত থেকে হীরাটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
১৯৫০–২০০০হীরা পশ্চিমা ব্যক্তিগত সংগ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের কাছে যায়।
২০১১এলিজাবেথ টেলরের সংগ্রহে থাকা হীরা নিলামে বিক্রি হয়।
২০২৬মার্গট রবির গলায় প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত।

এই ঘটনার পর কোহিনূর হীরাসহ অন্যান্য মূল্যবান ভারতীয় সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি নতুন করে জোর পেয়েছে। বিশেষ করে গত বছর মেট গালায় ভারতীয় গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ পাতিয়ালার মহারাজার একটি ঐতিহাসিক নেকলেস পরতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কার্তিয়ের কর্তৃপক্ষ প্রদর্শনীতে থাকার অজুহাতে তাকে প্রত্যাখ্যান করে। এর বিপরীতে ২০২২ সালে ইউটিউবার এমা চেম্বারলেনকে সেই একই সংগ্রহের গয়না পরতে দেওয়া হয়েছিল, যা দ্বিচারিতার অভিযোগকে আরও তীব্র করে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনা শুধু একটি গয়নার প্রদর্শনী নয়, বরং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী রত্নগুলোর নিজের দেশে ফেরত আনার দাবিকে জোরদার করেছে। ভারতীয় ইতিহাসবিদ ও নাগরিকরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে পশ্চিমা বিশ্বের বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলো দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যকে অবমূল্যায়ন করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাজমহল হীরা এখন শুধুমাত্র একটি রত্ন নয়; এটি দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জন্য এক হারানো গৌরবের প্রতীক। মার্গট রবির এই সাজ আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও, সমালোচকরা মনে করছেন যে এটি ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সঠিক মর্যাদা না দেওয়ার একটি প্রতীক।