হেলাল উদ্দিনকে হত্যায় শোক ও ক্ষোভ

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাবেক নেতা হেলাল উদ্দিন (৫৫) কে হত্যার ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তিনি উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের কোটবাজালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতের দিকে হেলাল উদ্দিন বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাতপরিচয় ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র ও শাবল ব্যবহার করে তার পিঠে নৃশংস আঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে রবিবার সকাল ১০টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবার শোক প্রকাশ করে বলেছেন, “হেলাল উদ্দিন ছিলেন ত্যাগী ও সমাজসেবী নেতা। এমন নৃশংস ঘটনা আমাদের সকলের জন্য মর্মান্তিক।” স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষও হত্যার ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের গাজীপুর জেলা শাখার সদস্যসচিব ফকির ইস্কান্দার আলম বলেন, “হেলাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে কৃষক ও সাধারণ মানুষদের কল্যাণে কাজ করেছেন। তার হত্যাকাণ্ড নিন্দনীয় এবং এটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটবিহীন নয়।”

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, “নিহতের ভাতিজার সঙ্গে মুঠোফোন চুরি–সংক্রান্ত একটি তর্কবিতর্ক হয়েছিল। এটি ঘটনার পেছনের প্রাথমিক প্রেক্ষাপট হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নিহতের মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

নিচের টেবিলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
নিহতের নামহেলাল উদ্দিন
বয়স৫৫ বছর
রাজনৈতিক পরিচয়কাপাসিয়া উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক
মৃত্যুর তারিখ ও সময়১ ফেব্রুয়ারি, সকাল ১০টা
আহত হওয়ার স্থানকোটবাজালিয়া, চাঁদপুর ইউনিয়ন, কাপাসিয়া
হামলাকারীর সংখ্যা৪-৫ জন অজ্ঞাতপরিচয়
ব্যবহৃত অস্ত্রদেশীয় অস্ত্র ও শাবল
প্রাথমিক চিকিৎসাকাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
উন্নত চিকিৎসাঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
তদন্তকারী সংস্থাকাপাসিয়া থানা

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্থানীয় ও রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। হেলাল উদ্দিনের মৃত্যু কৃষক ও সাধারণ জনগণের মধ্যে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার তাগিদ আরও জোরদার করেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, তদন্ত শেষে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও শাস্তি প্রদান করা হবে।