দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারালেন

জোহানেসবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকা: দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে সন্ত্রাসীদের গুলিতে খালেদ মাহমুদ (৩২) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে এলিছপার্ক ইন্ড স্ট্রিটের গাড়ি পার্কিং এলাকায় এ নির্মম ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় প্রবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খালেদ তার গাড়ি পার্ক করার সময় আচমকা সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে জোহানেসবার্গ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে, তবে মোটিভ স্পষ্ট নয়।

খালেদ মাহমুদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালা বাজার অলংকারী ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করছিলেন এবং মামার মালিকানাধীন প্রোপার্টি ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। খালেদ গত বছর দেশে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন। তার পরিবারের মধ্যে মা-বাবা, স্ত্রী ও তিন বোন রয়েছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান, খালেদের মৃত্যুতে জোহানেসবার্গের প্রবাসী কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

খালেদের লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তার মামা আফরোজ উদ্দিন জানিয়েছেন, লাশ আগামী সোম বা মঙ্গলবারের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছাবে। প্রবাসী ও স্থানীয় সাংবাদিকরা জানাচ্ছেন, খালেদের পরিবার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যাতে তিনি পরিবারের কোলে ফিরে আসেন।

নিম্নে খালেদ মাহমুদের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত:

বিবরণতথ্য
নামখালেদ মাহমুদ
বয়স৩২ বছর
গ্রামটেংরা, লালা বাজার, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট
বসবাসজোহানেসবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকা
পেশাপ্রোপার্টি ব্যবসা (মামার মালিকানাধীন)
পরিবারের সদস্যমা-বাবা, স্ত্রী, তিন বোন
দেশে শেষ সফর২০২৫ সালে বিয়ে
মৃত্যুর সময়৩১ জানুয়ারি, সকাল ৯টা, ২০২৬
স্থানএলিছপার্ক ইন্ড স্ট্রিট, জোহানেসবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকা

স্থানীয় পুলিশ এবং প্রবাসী কমিউনিটি এখন ঘটনার তদন্তে তৎপর। প্রবাসীদের নিরাপত্তা বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সম্প্রদায়ের নেতারা প্রবাসীদের উদ্দেশে বলেন, “যে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক থাকুন এবং জরুরি অবস্থায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন।”

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিলেটসহ দেশের প্রবাসী কমিউনিটিতে শোক এবং উদ্বেগের ছায়া নেমেছে। খালেদের পরিবারও গভীর শোকাহত, এবং তার লাশ দেশে পৌঁছানোর পরই শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু হবে।