বারামতি উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের মৃত্যু

মহারাষ্ট্রের বারামতিতে ২৮ জানুয়ারি ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন পাইলট সুমিত কাপুর, সহ-পাইলট শম্ভবী পাঠক, বিমানবালা পিংকি মালি, নিরাপত্তারক্ষী বিদিপ যাদব এবং যাত্রী ও রাজনীতিবিদ অজিত পাওয়ার। দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে কুয়াশা ও সীমিত দৃশ্যমানতার কারণে পাইলটের ভুল সিদ্ধান্তকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও সঠিক কারণ এখনো তদন্তাধীন।

সুমিত কাপুরের বন্ধুরা জানাচ্ছেন, ওই দিন উড়োজাহাজ চালানোর দায়িত্ব মূলত তার ছিল না; তিনি কেবল অন্য পাইলটের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে সুমিতকে অজিত পাওয়ারকে মুম্বাই থেকে বারামতির উদ্দেশে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

উড়োজাহাজটি ‘ভিএসআর ভেঞ্চারস’ সংস্থার Learjet 45 মডেল ছিল। ২৮ জানুয়ারি নির্বাচনী জনসভায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে সকাল ৮টায় তারা মুম্বাই থেকে রওনা হন। বারামতি বিমানবন্দরে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করতে গিয়ে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রানওয়ের দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় এবং কুয়াশার কারণে পাইলটের ভুল সিদ্ধান্ত দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত কারণ থাকলেও তা এখনো যাচাই করা হচ্ছে।

সুমিত কাপুরের পরিবার ও ঘনিষ্ঠরা এই প্রাথমিক ধারণা মেনে নেননি। তারা উল্লেখ করেছেন যে, সুমিত একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ পাইলট ছিলেন এবং সাধারণত কোনো ভুল করার সম্ভাবনা ছিল না। তারা সরকারের কাছে স্বচ্ছ ও ন্যায্য তদন্ত দাবি করেছেন।

বন্ধুরা সুমিতকে স্মরণ করেন একজন দয়ালু, দায়িত্বপরায়ণ ও উড়তে ভালোবাসা মানুষ হিসেবে। তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যও বিমানচালনার সঙ্গে যুক্ত—ছেলে ও জামাই দুজনেই পাইলট, এবং এক ভাই গুরগাঁওয়ে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত।

নিম্নে উড়োজাহাজে থাকা সকল ব্যক্তির তথ্য তুলে ধরা হলো:

নামদায়িত্ব/পদঅবস্থা
সুমিত কাপুরপাইলটনিহত
শম্ভবী পাঠকসহ-পাইলটনিহত
পিংকি মালিবিমানবালানিহত
বিদিপ যাদবনিরাপত্তারক্ষীনিহত
অজিত পাওয়ারযাত্রী, রাজনীতিবিদনিহত

বন্ধু শচীন তানেজা জানিয়েছেন, সুমিতের মৃতদেহ হাতের ব্রেসলেট দেখে শনাক্ত করা হয়। আরেক বন্ধু জিএস গ্রোভার স্মৃতিচারণা করে বলেন, সুমিত হংকং থেকে দেশে ফেরার পর নিয়মিত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার পরামর্শ দিতেন।

সুমিত কাপুরের পরিবার ও ঘনিষ্ঠরা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ন্যায্য তদন্তের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের পাইলট এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।