ভারতের আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সাম্প্রতিক মন্তব্যে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তিনসুকিয়া জেলার ডিগবয়তে অনুষ্ঠিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানিয়েছেন, আসামের ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৪–৫ লাখ ‘মিঞা’ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেছিলেন, আদর্শত এই জনগোষ্ঠীকে আসামে নয়, বরং বাংলাদেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।
‘মিঞা’ শব্দটি আসামে মূলত বাংলাভাষী মুসলমানদের বোঝাতে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়। এই মন্তব্যের পর বিরোধী দলগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রাইজর দলের সভাপতি অখিল গগৈ বলেন, “মিঞা জনগোষ্ঠীর উপর চাপ প্রয়োগ করার জন্য মানুষ তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করেননি।” কংগ্রেস নেতা আমান ওয়াদুদ মন্তব্য করেন, “মুখ্যমন্ত্রী আসামে সংবিধানের মূলনীতি পুরোপুরি অমান্য করেছেন।”
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আরও বলেন, “ভোট চুরি মানে আমরা কিছু মিঞা ভোট চুরি করার চেষ্টা করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো তাদের ভোটাধিকার সীমিত করা।” তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনী আইন ব্যবহার করে কিছু ‘উৎপাত’ বা বিঘ্ন সৃষ্টি করা হবে যাতে এই সম্প্রদায়ের ভোটাররা আসামে ভোট দিতে না পারেন।
এর আগে, আসামের ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশিত হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর। এতে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ২ কোটি ৫১ লাখ। তালিকায় মৃত, অন্যত্র চলে গিয়েছেন বা দ্বৈত এন্ট্রি থাকা ভোটারও চিহ্নিত করা হয়েছিল।
আসামের ভোটার তালিকার পরিসংখ্যান (২০২৫)
| ভোটার তথ্য | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট ভোটার | 2,51,00,000 |
| মৃত ভোটার | 4,78,000 |
| অন্যত্র চলে গেছেন | 5,23,000 |
| দ্বৈত এন্ট্রি | 53,619 |
| যাচাই সম্পন্ন পরিবার | 61,00,000+ |
বিরোধীরা গত রোববার মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, ভোটার তালিকার ‘বিশেষ সংশোধন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, আইনি লঙ্ঘন এবং প্রকৃত ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে। তারা এটিকে স্বেচ্ছাচারী, বেআইনি ও অসাংবিধানিক দাবি করেছেন।
উল্লেখযোগ্য যে, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এর আগে বাংলাদেশ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এই নতুন মন্তব্য নতুন করে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সাম্প্রদায়িক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যা আসামের ভোটপ্রক্রিয়ার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
