যুব বাদ্য সংগীতে নবীন প্রতিভার উত্সব

কলকাতার শিশির মঞ্চ সম্প্রতি মুখরিত ছিল নবম মঙ্গলাচরণা সংগীত সম্মেলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘যুব বাদ্য সংগীত উৎসব’ দিয়ে। এই উৎসব মূলত ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের ঐতিহ্যকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে বহন ও প্রচার করার লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়। বিশেষভাবে অনূর্ধ্ব ৩০ বছর বয়সী নবীন ও প্রতিশ্রুতিশীল যন্ত্রসংগীত শিল্পীরা এতে অংশগ্রহণ করে নিজেদের দক্ষতা এবং সৃজনশীলতা প্রদর্শন করেন।

উৎসবের মূল লক্ষ্য ছিল যুব সমাজকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহী করা এবং যুগলবন্দি পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সঙ্গীতের সৃজনশীল সম্ভাবনা প্রকাশ করা। শ্রোতারা সেখানে সরোদ, সেতার, তবলা, বাঁশি, সন্তুর ও স্লাইড গিটারসহ বিভিন্ন যন্ত্রের সমন্বয়ে মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার সাক্ষী হন। প্রতিটি যুগলবন্দি কেবল সুর ও ছন্দের মিল নয়, বরং সঙ্গীতের ভাবনা ও আবেগের সংযোগও স্থাপন করে।

উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্সের মধ্যে ছিল:

  • স্নেহেশ নাগ ও স্বর্ণেন্দু মণ্ডল – সেতার ও সরোদের যুগলবন্দিতে রাগ জয়জয়ন্তী পরিবেশন।

  • সোহম মাইতি ও সিদ্ধাজিৎ মণ্ডল – এসরাজ ও স্লাইড গিটারে রাগ কিরওয়ানি।

  • অর্ক রায় ও সৌনক রায় – সরোদের যুগলবন্দিতে রাগ মধুবন্তী ও শ্রী।

  • বনানী দাস ও শারণ্য সরকার – বাঁশি ও সন্তুরে রাগ ইমন, শ্রোতাদের হৃদয় স্পর্শ করে।

প্রতিটি যুগলবন্দিতে তবলাযন্ত্রের সমন্বয় অপরিহার্য ছিল, যা শিল্পীদের পারফরম্যান্সকে আরও প্রাণবন্ত ও মনোমুগ্ধকর করে তোলে।

নীচের টেবিলে প্রধান শিল্পী ও তাদের যুগলবন্দি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:

যুগলবন্দি শিল্পীযন্ত্রপরিবেশিত রাগতবলা সহযোগী
স্নেহেশ নাগ ও স্বর্ণেন্দু মণ্ডলসেতার ও সরোদজয়জয়ন্তীঅঞ্জিষ্ণু মুখার্জি
সোহম মাইতি ও সিদ্ধাজিৎ মণ্ডলএসরাজ ও স্লাইড গিটারকিরওয়ানিরোহেন বসু
অর্ক রায় ও সৌনক রায়সরোদমধুবন্তী ও শ্রীসুদীপ চক্রবর্তী
বনানী দাস ও শারণ্য সরকারবাঁশি ও সন্তুরইমনসোহন ঘোষ

এই উৎসবের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হলো যে, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ধারাকে নবীন প্রজন্মের মাধ্যমে নতুন মাত্রা দেওয়া সম্ভব। প্রতিটি শিল্পী তাদের নিজস্ব সৃজনশীলতা ও আবেগ প্রকাশ করেন এবং শ্রোতাদের সঙ্গে গভীর সঙ্গীতাত্মক সংযোগ স্থাপন করেন। কলকাতার সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য এটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা হিসেবে চিরস্থায়ী স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে।

যুগলবন্দির এই উৎসব প্রমাণ করে যে, নবীন প্রতিভা এবং প্রথাগত শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সমন্বয় নতুন দিগন্তের সৃজনশীলতা সৃষ্টি করতে সক্ষম।