অবৈধ পথে ইতালি যাত্রায় নিখোঁজ ১০ তরুণ ১০ মাস ধরে

মাদারীপুরের ১০ জন তরুণ ১০ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের দাবি, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার প্রলোভনে পড়ে তারা লিবিয়ার বন্দীশালায় আটকা পড়ে এবং মুক্তিপণের জন্য দালাল চক্রের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা গুনতে বাধ্য হয়েছেন। তবে গত ১০ মাস ধরে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজদের পরিবার জানায়, প্রথমে প্রত্যেককে ১৫ লাখ টাকায় ইতালি পৌঁছে দেওয়ার চুক্তি হয়। এরপর দালাল চক্র তাদের লিবিয়ার একটি শহরের বন্দীশালায় আটকে রাখে এবং মুক্তিপণের জন্য ১৩ থেকে ১৫ লাখ টাকা আদায় করে। মুক্তিপণ পরিশোধের পর এপ্রিল মাসে নৌকায় চড়ে তারা ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু তারপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ মেলেনি।

নিখোঁজ তরুণদের তালিকা নিম্নরূপ:

নামবয়সপিতার নামবাড়ি/ইউনিয়ন
লিমন ব্যাপারী১৯আনোয়ার ব্যাপারীকেন্দুয়া ইউনিয়ন, নয়াকান্দি
রবিউল মাতুব্বর২২হেমায়েত মাতুব্বরকেন্দুয়া ইউনিয়ন, নয়াকান্দি
মো. জয় মাতুব্বর২০টিটু মাতুব্বরদত্তেরহাট, কেন্দুয়া ইউনিয়ন
জীদান হোসেন হাওলাদার১৮মোক্তার হাওলাদারকেন্দুয়া ইউনিয়ন
ওয়ালিদ হাসান১৯জুলহাস চোকদারমস্তফাপুর ইউনিয়ন, গাছবাড়িয়া
মোহাম্মদ আলী২২পেয়ারপুর ইউনিয়ন, মাছকান্দি
শরিফুল ইসলাম২৭আবুল বাশার মাতুব্বররাজৈর, বাজিতপুর ইউনিয়ন, মাচ্চর
আজমুল খাঁ৩০হাশেম খাঁপাখুল্লা এলাকা
তুহিন মজুমদার২৩কালু মজুমদারমোল্লাকান্দি এলাকা
মো. মাহাবুব হোসেন২১মাদারীপুর শহর, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা

নিখোঁজদের পরিবার বলছেন, প্রাথমিকভাবে মাত্র ১৫ লাখ টাকায় ইতালি পৌঁছানোর প্রলোভনে পড়েন তাদের সন্তানরা। দালাল চক্রের নেতৃত্ব দেন মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের গাজীরচর এলাকার জাহাঙ্গীর ঢালীর স্ত্রী পেয়ারা বেগম এবং তার সন্তানরা। পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজ তরুণদের মুক্তি ও ইতালি যাত্রার জন্য মোট ২৮ থেকে ৩০ লাখ টাকা চাওয়া হয়।

নিখোঁজ লিমনের বাবা আনোয়ার ব্যাপারী বলেন, “দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে ছেলে পাগল হয়ে যায়। আমরা বাধ্য হয়ে টাকা ও পাসপোর্ট দিয়েছি। এখন ১০ মাস পার হলেও কোনো খোঁজ নেই।” জয় মাতুব্বরের বাবা টিটু মাতুব্বর জানিয়েছেন, “আমার ছেলে কাজ করত পেয়ারা বেগমের বাড়িতে। এরপর লোভ দেখিয়ে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। আমরা দালালদের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকা দিয়েও মুক্তি পাই। কিন্তু এরপর আর কোনো খবর নেই।”

পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের মধ্যে একজন লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মামলা দায়েরের পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিখোঁজ বাকিদের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “দালাল চক্র থেকে সাবধান না হলে অনেকেই প্রাণ ও অর্থ হারাচ্ছেন। মানবপাচার রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

স্থানীয়রা জানান, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দালাল চক্রে রয়েছেন পেয়ারা বেগমের দুই ছেলে — ফারদিন ঢালী ও সৌরভ ঢালী, এছাড়া শরীয়তপুরের সবুজ কাজী ও মুজাহিদ শেখও এতে জড়িত। সম্প্রতি পেয়ারা বেগমের পরিবারও অপ্রাপ্য। অভিযুক্তরা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ ঘটনায় নিখোঁজ ১০ তরুণের পরিবার এখন শুধু সন্তানদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য তৎপর রয়েছেন, পাশাপাশি দালাল চক্রের কঠোর বিচারের দাবিও জানিয়েছেন।