বাংলাদেশ ব্যাংক করে ৫৫ মিলিয়ন ডলারের ক্রয়

বাংলাদেশ ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাতকে সমর্থন করার লক্ষ্যে ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। এই ক্রয় কার্যক্রম দেশের পাঁচটি প্রধান বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে একাধিক নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এই লেনদেন প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা হারে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “এটি বাংলাদেশের চলমান বৈদেশিক মুদ্রা নীতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা নিয়মিত নিলাম ও সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী রাখছি। এটি রপ্তানি খাত এবং প্রবাসী আয়কে স্থিতিশীল রাখার জন্য অপরিহার্য।”

২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ৭৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। এছাড়া চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩,৯৩৩.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ব্যাংকের এই ক্রয় কার্যক্রম দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে সমর্থন করে।

নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক ডলার ক্রয়ের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

সময়কালক্রয়কৃত ডলারের পরিমাণ (মিলিয়ন USD)প্রতি ডলারের হার (BDT)মন্তব্য
জানুয়ারি ২০২৬৭৯৮১২২.৩০একাধিক নিলামের মাধ্যমে
২০২৫-২৬ অর্থবছর (মোট)৩,৯৩৩.৫০চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে মোট

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং টাকার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এই ধরনের ক্রয় কার্যক্রম অপরিহার্য। এটি রপ্তানি খাত ও প্রবাসী আয়কে সমর্থন করে, যা অর্থনীতির মোট প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপের ফলে বাজারে ডলারের মূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ আরও স্থিতিশীল হবে। ব্যাংক আশা করছে, নিয়মিত ডলার ক্রয়ের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার অভাব এড়ানো সম্ভব হবে এবং বাজারে টাকার মান স্থিতিশীল রাখা যাবে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী থাকলে দেশীয় বাজারে আমদানি, রপ্তানি ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ক্রয় কার্যক্রম দেশের অর্থনীতিকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সমন্বিত রাখতে এবং আর্থিক ঝুঁকি হ্রাস করতে গুরুত্বপূর্ণ।