যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলায় বৃহস্পতিবার অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতাল ও চিকিৎসা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক যান থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শহরের পূর্বাঞ্চল জুড়ে ওই সময় ইসরায়েলি বাহিনী গোলাবর্ষণ চালায়। এছাড়া, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে হুসাম আবু করিমের মরদেহ ও পাঁচজন আহত ফিলিস্তিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা মাঘাজি শরণার্থী শিবিরের মাক্কি গোলচত্বরের কাছে একটি ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন।
চিকিৎসা সূত্র আরও জানায়, খান ইউনিসের পূর্বে ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছে শেখ নাসের এলাকায় একজন ফিলিস্তিনি গুলিতে নিহত হয়েছেন। একই শহরের অন্যান্য এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক মোতায়েনের বাইরে থাকা এক ব্যক্তিও গুলিতে প্রাণ হারান।
এ হামলা ও নিহতের ঘটনা ঘটে এমন সময়ে, যখন হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে। অক্টোবরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই হামলায় গাজায় ৪৯২ ফিলিস্তিনি নিহত ও ১,৩৫৬ জন আহত হয়েছেন।
দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনের অবসান ঘটে এই যুদ্ধবিরতিতে, যেখানে মোট ৭১,৬০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭১,৩০০ জন আহত হন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ওই আগ্রাসনে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং পুনর্গঠনে ব্যয় হতে পারে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
নিম্নে সাম্প্রতিক হামলার তথ্য সারণী আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| তারিখ | স্থান | হামলার ধরন | নিহত | আহত |
|---|---|---|---|---|
| বৃহস্পতিবার | খান ইউনিস (পূর্বাঞ্চল) | ইসরায়েলি গুলিবর্ষণ | 2 | 0 |
| বৃহস্পতিবার | শেখ নাসের, খান ইউনিস | গুলি | 1 | 0 |
| বৃহস্পতিবার | দেইর আল-বালাহ, মধ্য গাজা | ড্রোন হামলা | 1 | 5 |
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এই ধরনের আঘাত শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য বড় বাধা সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি মনিটর করছে এবং মানবিক সহায়তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
