২৭ বছর বয়সে কোরীয় গায়িকার আকস্মিক মৃত্যু

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিভাবান গায়িকা মো সু-জিন ২৪ জানুয়ারি ২৭ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় অ্যাকুস্টিক কোলাবো ব্যান্ডের একজন প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণ কোরীয় সঙ্গীত জগতে শোকের ছায়া নেমেছে।

মো সু-জিনের এজেন্সি প্যানিক বাটন জানিয়েছে, তার শেষকৃত্য বুধবার সকাল ১০:৩০টায় গিয়ংগি প্রদেশের নামইয়াংজুতে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছে। এজেন্সি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আমরা প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী, শেষকৃত্য কেবল পরিবার, আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে আয়োজন করা হয়েছে।”

অ্যাকুস্টিক কোলাবোর সহশিল্পী কিম সেউং-জে সামাজিক মাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “২০১৯ সালে আমাদের প্রথম দেখা। ২০২৬ পর্যন্ত আমরা সপ্তাহে অন্তত একদিন, কখনও কখনও টানা সাত দিন একসাথে দেখা করেছি। সে ছিল আমার সবচেয়ে কাছের সঙ্গী।” তিনি আরও বলেছেন, “সে আমাকে সুখের অর্থ শিখিয়েছে এবং জীবনের প্রতি শক্তি দিয়েছে। তার কথা মনে পড়লেই বোঝা যায়, সে কেবল বন্ধু নয়, বরং আনন্দের সঙ্গে জীবন ভাগ করে নেওয়ার একজন সহচর ছিল।”

মো সু-জিন ২০২০ সালে অ্যাকুস্টিক কোলাবোতে যোগ দেন। ব্যান্ডের তৃতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যালবামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ব্যান্ডের অন্যান্য সদস্যরা বলেছেন, তার সঙ্গীতের নরম আবহ এবং আবেগপূর্ণ কণ্ঠধ্বনি দলের সঙ্গীতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

ব্যান্ডের বাইরে মো সু-জিন একক শিল্পী হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন। ২০২৫ সালের জুনে তিনি ‘ইয়োর ইউনিভার্স’ শিরোনামে একটি সিঙ্গেল প্রকাশ করেন, যা কোরিয়ার ছেলেদের এবং মেয়েদের সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তার একক সিঙ্গেলগুলো মূলত লিরিক্যাল গভীরতা এবং আবেগপূর্ণ সুরের জন্য প্রশংসিত হয়েছে।

নিচের টেবিলে মো সু-জিনের সংক্ষিপ্ত সঙ্গীত জীবন তুলে ধরা হলো:

বছরঘটনা/অ্যালবামউল্লেখযোগ্য অবদান
2019প্রথম পরিচয় কিম সেউং-জের সঙ্গেব্যান্ডের আগ্রহী সদস্য হিসেবে যুক্ত হন
2020অ্যাকুস্টিক কোলাবোতে যোগদানতৃতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য অ্যালবামে কণ্ঠদান
2025একক সিঙ্গেল ‘ইয়োর ইউনিভার্স’একক শিল্পী হিসেবে সাফল্য অর্জন
2026মৃত্যু২৪ জানুয়ারি, বয়স ২৭ বছর

মো সু-জিনের আকস্মিক প্রয়াণ কোরীয় সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে তার ব্যান্ড ও একক সঙ্গীতের মাধ্যমে যারা তার সাথে মেলবন্ধন গড়েছিলেন, তারা শোকাহত। তার সৃষ্টিশীলতা, আবেগপূর্ণ কণ্ঠ এবং মধুর সুরদানে কোরীয় সঙ্গীত জগতে তার স্মৃতি চিরকাল অম্লান থাকবে।