,

ইরানের বিক্ষোভে আহতদের চিকিৎসা সংকট

ইরানের ইস্পাহান, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অসংখ্য মানুষ আহত হলেও তারা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারছে না। নিরাপত্তা বাহিনীর ভয় থেকে আহতরা গোপনে বাড়ি বা পরিচিত চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ইস্পাহানের এক বিক্ষোভকারী (ছদ্মনাম: তারা) জানান, নিরাপত্তা বাহিনী লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি ছুড়ে তাদের আহত করার পর তিনি ও তাঁর বন্ধু রক্তে ভেজা জামাকাপড় নিয়ে স্থানীয় এক দম্পতির বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে পরিচিত চিকিৎসক ক্ষত পরিষ্কার করেন এবং এক সার্জন বাড়িতে গিয়ে শরীর থেকে ছোট গুলির কিছু অংশ বের করেন। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, “সব গুলি বের করা সম্ভব নয়; কিছু শরীরের ভিতরে থেকে যাবে।”

এক তেহরান ভিত্তিক সার্জন (ছদ্মনাম: নিমা) বিবিসিকে জানান, ৮ জানুয়ারি তিনি রাস্তায় রক্তাক্ত তরুণদের দেখেন এবং পুলিশের তল্লাশির ভয়ে একজনকে গাড়ির ডিকিতে লুকিয়ে হাসপাতালে আনেন। তিনি বলেন, তিনি ৯৬ ঘণ্টা ঘুম না নিয়ে একটানা অস্ত্রোপচার করেছেন।

বিক্ষোভের হতাহতের পরিসংখ্যান

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) ও ইরান সরকারের দেওয়া তথ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে:

তথ্য উৎসনিহত বিক্ষোভকারীশিশুসাধারণ পথচারীনিরাপত্তা বাহিনীমোট মৃতমন্তব্য
এইচআরএএনএ5,925112502146,301১৭ হাজারের বেশি মৃত্যুর তথ্য যাচাই চলছে
ইরান সরকারআনুমানিক ২,৮০০অজানাঅজানাঅজানা৩,১০০বড় অংশ নিরাপত্তা বাহিনী সদস্য

এইচআরএএনএ’র তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১১ হাজার বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তেহরান ও ইস্পাহানের হাসপাতালগুলোর একজন স্বাস্থ্যকর্মী জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি ও হুমকির কারণে চিকিৎসকেরা রোগীর রেকর্ডে আঘাতের প্রকৃত তথ্য উল্লেখ করছেন না।

হাসপাতালের চ্যালেঞ্জ

তেহরানের ফারাবি চক্ষু হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসক ড. কাসেম ফাখরাই জানান, ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য ৭০০ রোগীর চিকিৎসা করেছেন। ২০০ জনকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর চোখ, হাত ও পায়ের আঘাতে অনেক রোগী স্থায়ীভাবে অক্ষম হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন।

একটি ছোট শহরের রোগী (ছদ্মনাম: সিনা) বলেন, হাসপাতাল যেন যুদ্ধক্ষেত্রের মতো, কম্বল বা অন্যান্য সরঞ্জামও পর্যাপ্ত নেই। নিরাপত্তার ভয়ে আহতরা গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তবে ইরানি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সরকারি হাসপাতালের ওপর মানুষের আস্থা রয়েছে। গত ছয় দিনে প্রায় তিন হাজার মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। মুখপাত্র হোসেন শোকরি জানান, “চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে আহতরা নিরপেক্ষভাবে সেবা পাচ্ছেন।”

নিরাপত্তার কারণে সকল নাম ও স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ, এবং দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা জরুরি হয়ে উঠেছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।