দীর্ঘ ১৪ বছরের বিরতির পর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও পাকিস্তানের করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় শুরু হচ্ছে। আগামী ২৯ জানুয়ারি, রাত ৮টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রথম ফ্লাইট করাচির উদ্দেশে উড্ডয়ন করবে।
বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে প্রথম ফ্লাইটটি বোয়িং ৭৩৭ বিমান দ্বারা পরিচালিত হবে এবং এতে ১৬২ আসন রয়েছে, যেগুলো ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে। ফ্লাইটটি করাচি পৌঁছাবে স্থানীয় সময় রাত ১১টায়, নিরাপদে।
ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট একসময় নিয়মিত চললেও ২০১২ সালে এটি স্থগিত করা হয়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার পুনরায় এই রুট চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে। দুই দেশের সরকারের আলোচনার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০২৬ সালের জন্য প্রথম ফ্লাইটটি নির্ধারণ করে এবং ৭ জানুয়ারি থেকে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রাথমিকভাবে, ঢাকা-করাচি-ঢাকা রুটে সপ্তাহে দুইবার ফ্লাইট পরিচালিত হবে—প্রতিটি বৃহস্পতিবার ও শনিবার। ঢাকা থেকে ফ্লাইট ছাড়ার সময় রাত ৮টায়, করাচি পৌঁছানোর সময় রাত ১১টায়। করাচি থেকে ঢাকার ফ্লাইট রাত ১২টায় ছাড়বে এবং ভোর ৪:২০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
বিমানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রুটটি চালু হওয়ায় যাত্রীদের চলাচল আরও সহজ ও সুবিধাজনক হবে। পাশাপাশি ব্যবসা, পর্যটন ও পারিবারিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হবে। বিশেষভাবে ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ এবং পর্যটক আদানপ্রদানের ক্ষেত্রে এই রুট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিচের টেবিলে ফ্লাইট সংক্রান্ত প্রধান তথ্য সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| বিমান সংস্থা | বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স |
| ফ্লাইট ধরন | যাত্রীবাহী বোয়িং ৭৩৭ |
| আসনের সংখ্যা | ১৬২ |
| ঢাকা থেকে উড্ডয়ন | রাত ৮টা (স্থানীয় সময়) |
| করাচি পৌঁছানোর সময় | রাত ১১টা (স্থানীয় সময়) |
| করাচি থেকে ঢাকা ফ্লাইট | রাত ১২টা (স্থানীয় সময়) |
| ঢাকায় পৌঁছানোর সময় | ভোর ৪:২০ (স্থানীয় সময়) |
| ফ্লাইট চলাচলের দিন | বৃহস্পতিবার ও শনিবার |
| লক্ষ্য | ব্যবসা, পর্যটন ও পারিবারিক ভ্রমণ |
ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় ঢাকা-করাচি রুটে যাত্রীবাহন ও ব্যবসায়িক লেনদেনে নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এই রুটের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, পর্যটক সমাগম ও পারিবারিক ভ্রমণ আরও সহজতর হবে।
