দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশনের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে। দুদকের এক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে গত বছরের একই তারিখে চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
দুদকের মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হাবিবুর রহমান তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পে জড়িত ছিলেন। এই প্রকল্পগুলোতে তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত। তাঁকে সিভিল এভিয়েশনের দুর্নীতির ‘বরপুত্র’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
দুদক জানিয়েছে, হাবিবুর রহমান চাকরিজীবন শুরু থেকে বিভিন্ন অনিয়ম ও অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। চাকরির সময়ে তিনি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদের মালিক হন। মূলত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বড় প্রকল্পগুলোর দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেন।
একটি প্রখ্যাত ঘটনার উদাহরণ হলো কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সরকার ৫০ কোটি টাকা প্রদান করলেও হাবিবুর রহমান ঘুষ-বাণিজ্যের আশায় চেক ছাড়তে দেরি করেন। ফলে জমি অধিগ্রহণের কাজ পিছিয়ে যায়। পরে সরকার বাধ্য হয়ে তিনগুণ অর্থ দিয়ে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে, যার ফলে ১০০ কোটি টাকার লোকসান হয়। তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
দুদক আরও জানায়, প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও হাবিবুর রহমান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে রেহাই পেতেন। তাঁর এই কার্যকলাপ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল, যা সিভিল এভিয়েশনের বড় প্রকল্পগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা ও সরকারি সম্পদের ক্ষতি ঘটিয়েছে।
নিচের টেবিলটি হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা ও অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরেছে:
| মামলা নং | প্রকল্পের নাম | অভিযোগের ধরন | আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ | মামলা দায়েরের তারিখ |
|---|---|---|---|---|
| ১ | কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ | ঘুষ ও অনিয়ম | ১০০ কোটি টাকা | ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ |
| ২ | ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উন্নয়ন | দুর্নীতি | নির্ধারিত হয়নি | ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ |
| ৩ | চট্টগ্রাম বিমানবন্দর উন্নয়ন | ঘুষ-বাণিজ্য | নির্ধারিত হয়নি | ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ |
| ৪ | বেবিচকের বিভিন্ন প্রকল্প | অনিয়ম ও স্বার্থসংশ্লিষ্টতা | নির্ধারিত হয়নি | ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ |
দুদকের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য হাবিবুর রহমানের দীর্ঘদিনের অনিয়মের হিসাব নিকাশ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে সিভিল এভিয়েশনের প্রকল্পগুলিতে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা।
