বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন এক ধরণের স্থবিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। দেশের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ দলের এক সদস্য, নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানালেন, “বাড়ির কাছেই মাঠ আছে। সেখানে গিয়ে ফিটনেসটা ঠিক রাখার চেষ্টা করছি। খেলার তো কোনো খবর নেই।”
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে দলের মূল অবস্থান হওয়া উচিত ছিল ভারতের বেঙ্গালুরু। কিন্তু নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দলের ভারতে যাত্রা বাতিল করে। ফলে আইসিসি স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা দেয়। এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে দেশের ক্রিকেটের প্রতিটি স্তরে।
গতকাল মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখা গেছে, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য থাকা ‘সবেধন নীলমণি’ একাডেমি মাঠে কোনো প্রস্তুতি কার্যক্রম চোখে পড়েনি। মাঠকর্মীরা শুধুই ঘাস কাটার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ফিটনেস ট্রেনিং বা ক্রিকেট অনুশীলনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মিরপুরের বিসিবি ভবনেও খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের ভিড় কম, যেখানে সাধারণত জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা নিয়মিত উপস্থিত থাকেন।
বিসিবির এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সবাই আসলে জাতীয় নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে। একেকজনের স্বার্থ আলাদা, তাই সবাই চুপচাপ আছে। নির্বাচনের পরই সব কিছু পরিষ্কার হবে।”
তবে ক্রিকেটের পুরো কার্যক্রম বন্ধ নয়। পূর্বাচলের ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিসিডিএম চ্যালেঞ্জ কাপ টি-টুয়েন্টির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিসিবির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে এই টুর্নামেন্ট মূলত ঘরোয়া ক্রিকেটে চলমান অনিশ্চয়তা মোকাবেলার উদ্দেশ্যেই আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকার প্রথম বিভাগ ক্রিকেটের আটটি ক্লাব বয়কট করার কারণে জাতীয় পর্যায়ের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের বয়কট পরিস্থিতি এবং বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে অসন্তোষের কারণে ৪৮টি ক্লাব বর্তমানে কোনো ধরনের ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছে না। এই প্রভাব পড়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও, যেখানে ১২টি ক্লাবের মধ্যে ৯টি বয়কটের পক্ষে।
বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির ম্যানেজার আবু ইনাম মোহাম্মদ কায়সার জানান, “বিসিএল মূলত জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন বিশ্বকাপে না যাওয়ায় আমরা নতুনভাবে আয়োজনের চিন্তা করছি।”
প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের ওয়ানডে সংস্করণের ম্যাচ হবে। এপ্রিলে আয়োজন হবে চার দিনের ম্যাচ।
নিচের টেবিলে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট পরিস্থিতির মূল তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | অবস্থা | প্রভাব |
|---|---|---|
| জাতীয় দলের অবস্থান | ভারতে যাওয়ার কথা ছিল | নিরাপত্তা কারণে বাতিল |
| বিশ্বকাপ | বাংলাদেশ অংশ নিল না | আইসিসি স্কটল্যান্ডকে জায়গা দেয় |
| একাডেমি মাঠ কার্যক্রম | নেই | ফিটনেস ও অনুশীলন বন্ধ |
| ক্লাব বয়কট | ৪৮টি ক্লাব | ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও ঘরোয়া ক্রিকেট অনিশ্চয়তা |
| নতুন টুর্নামেন্ট | সিসিডিএম চ্যালেঞ্জ কাপ | জাতীয় দলের অনুপস্থিতিতে বিকল্প আয়োজন |
বর্তমান চিত্রে স্পষ্ট, দেশের ক্রিকেটাররা অনিশ্চয়তার মধ্যে ফিটনেস ও খেলার তাগিদ বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। ঘরোয়া ক্রিকেট ও ক্লাব বয়কটের কারণে ক্রিকেটের নিয়মিত চক্র স্থবির থাকলেও, নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে বিসিবি পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছে।
