কলম্বোতে ব্রুক ঝড়ে ইংল্যান্ডের ওয়ানডে জয়

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বোর উইকেটে আজ ক্রিকেটের ইতিহাস রচনা করলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। তৃতীয় ওয়ানডেতে ৬৬ বলের মধ্যে অপরাজিত ১৩৬ রান করে দলের জয়ে অভূতপূর্ব অবদান রাখেন তিনি। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, নিজের ইনিংসের শেষ ২৭ বলেই ৯০ রান তুলে তিনি ‘ঝড়ের মতো’ বোলিং-বিরোধী ইনিংস খেলেন।

ব্রুক ৩২তম ওভারে উইকেটে আসেন। প্রথম ৪০ ওভারে তার রান ছিল মাত্র ৩৫। এরপরই শুরু হয় বিস্ফোরক ব্যাটিং; মাত্র ৪০ বলেই প্রথম ফিফটি সম্পন্ন করেন। দ্বিতীয় ফিফটি করেছেন মাত্র ১৭ বলেই। ইংল্যান্ডের শেষ ৬৯ রানের মধ্যে ৬৮ রানই এসেছে ব্রুকের ব্যাট থেকে। অধিনায়ক হিসেবে তার এই কীর্তি দলকে সিরিজ জেতার পথ দেখিয়েছে।

সেই সঙ্গে জো রুটের ২০তম সেঞ্চুরি ইনিংসের শেষের দিকে দর্শকের মতো অবদান রাখে। রুট ও ব্রুকের জুটিতে ৩ উইকেটে ৩৫৭ রান করে ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা রান তাড়া করতে গিয়ে পবন রত্নানায়েকের সেঞ্চুরিতে মাত্র ৩০৪ রান করতে পারে। ইংল্যান্ড ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২–১ ব্যবধানে জিতেছে, যা ২০২৩ সালের পর দেশের বাইরে প্রথম সিরিজ জয়।

ব্রুকের এই কীর্তি আরও বিশেষ হয়ে যায় যখন দেখা যায়, তিনি ইনিংসের শেষ ১০ ওভারে শতরান পূর্ণ করেছেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে এই ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। ব্রুকের এই সেঞ্চুরি নবমবার কোনো ব্যাটসম্যান শেষ ১০ ওভারে ১০০ রানের বেশি করেছেন।

ওয়ানডেতে শেষ ১০ ওভারে শতরানের শীর্ষ রেকর্ডধারীরা:

ব্যাটসম্যানদেশপ্রতিপক্ষবছরশেষ ১০ ওভারে রান
এবি ডি ভিলিয়ার্সদক্ষিণ আফ্রিকাওয়েস্ট ইন্ডিজ২০১৫১২১
এবি ডি ভিলিয়ার্সদক্ষিণ আফ্রিকাওয়েস্ট ইন্ডিজ২০১৫১০৯
রোহিত শর্মাভারতশ্রীলঙ্কা২০১৪১১০
রোহিত শর্মাভারতশ্রীলঙ্কা২০১৭১০৫
গ্লেন ম্যাক্সওয়েলঅস্ট্রেলিয়ানেদারল্যান্ডস২০২৩১০৬
জস বাটলারইংল্যান্ডপাকিস্তান২০১৫১০২
জস বাটলারইংল্যান্ডওয়েস্ট ইন্ডিজ২০১৯১০৪
হাইনরিখ ক্লাসেনদক্ষিণ আফ্রিকাঅস্ট্রেলিয়া২০১৭১০১
হ্যারি ব্রুকইংল্যান্ডশ্রীলঙ্কা২০২৬৯০* (২৭ বল)**

বিশেষভাবে বলা যায়, ব্রুকের এই ইনিংস ওয়ানডে ইতিহাসের দীর্ঘমেয়াদি স্মরণীয় কীর্তি। ইনিংসের শেষ অংশে তার ধ্বংসাত্মক ব্যাটিং দলের জন্য এক নতুন আত্মবিশ্বাস ও জয়ের পথ সুগম করেছে। এই সিরিজ জয়ের সঙ্গে ইংল্যান্ডের বাইরে ওয়ানডে ক্রিকেটে শক্ত অবস্থান ও তরুণ ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া ব্রুকের কৌশল এবং দ্রুততম রান তোলার দক্ষতা ওয়ানডে ক্রিকেটের স্ট্র্যাটেজি ও পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই ইনিংসের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং গভীরতা ও ফিনিশিং ক্ষমতার প্রমাণ মিলেছে, যা আগামী সিরিজে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।