গোয়ায় শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ নিষিদ্ধের পরিকল্পনা

ভারতের পর্যটন সম্ভারের শীর্ষ রাজ্য গোয়া শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার সীমিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ১০০ কোটি থেকে বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর দেশে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমবর্ধমান। এই প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ার মতো একটি নিষেধাজ্ঞা চালু করার সম্ভাবনা খুঁজে দেখা হচ্ছে।

গোয়ার তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী রোহন খাউন্তে জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার অস্ট্রেলিয়ার কেস স্টাডি পর্যালোচনা করছে, যেখানে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন,
“যদি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়, ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ গোয়ায় প্রবর্তন করা হবে। বিস্তারিত নির্দেশনা পরে জানানো হবে।”

ভারতে মেটা, গুগল এবং টুইটারের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের বৃহৎ বাজার রয়েছে। যদিও দেশে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিপুল, এখন পর্যন্ত জাতীয় স্তরে কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষেধাজ্ঞা নেই, এবং কেন্দ্রীয় সরকারও এ ধরনের পদক্ষেপের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

দক্ষিণ ভারতের বৃহৎ রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশও অনুরূপ উদ্যোগের কথা ভাবছে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশ একটি প্যানেল গঠন করেছে, যা বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে এক মাসের মধ্যে সুপারিশ দেবে।

গোয়া ভারতের সবচেয়ে ছোট রাজ্য, আয়তন তুলনায় কম হলেও জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। অন্যদিকে অন্ধ্রপ্রদেশে পাঁচ কোটি’রও বেশি মানুষ বসবাস করে।

তুলনামূলক তথ্য

রাজ্য/দেশজনসংখ্যা (প্রায়)শিশুদের বয়সসীমাসামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের অবস্থাপ্রবর্তনের বছর
গোয়া15 লাখ16 বছরের নিচেপরিকল্পনা চলছে২০২৬ (প্রস্তাবিত)
অন্ধ্রপ্রদেশ5 কোটি+16 বছরের নিচেপর্যালোচনা চলছে২০২৬ (প্রস্তাবিত)
অস্ট্রেলিয়া2.6 কোটি16 বছরের নিচেনিষিদ্ধ২০২৫
ফ্রান্স6.7 কোটিপর্যবেক্ষণআলোচনায়২০২৫-২০২৬
ইন্দোনেশিয়া2.7 কোটিপর্যবেক্ষণআলোচনায়২০২৫-২০২৬
মালয়েশিয়া3.3 কোটিপর্যবেক্ষণআলোচনায়২০২৫-২০২৬

অস্ট্রেলিয়া গত বছর প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের নিচে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। প্রথম মাসেই প্রায় ৪৭ লাখ কিশোর-কিশোরীর অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়। ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং অন্যান্য দেশও এই উদ্যোগ পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ আইন প্রণয়ন করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। অভিভাবক এবং রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই নিয়ন্ত্রণ বাস্তবায়ন করলে ডিজিটাল নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি কমবে।