বাংলাদেশ রেলওয়ে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) পূর্বাঞ্চলে পরিচালিত বিশেষ এক অভিযান শেষে একদিনে ৭৫টি ট্রেনে মোট ২,১৫৩ জন টিকিটবিহীন যাত্রীকে শনাক্ত করেছে। এই অভিযানের মাধ্যমে ভাড়া ও জরিমানা মিলিয়ে রেলওয়ের আয় দাঁড়িয়েছে ৪,৭৭,০৫৫ টাকা।
রেলওয়ের ভেরিফায়েড পেজে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, এই অভিযান মূলত পূর্বাঞ্চলের যাত্রীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি এবং ট্রেন ব্যবহার সংক্রান্ত সচেতনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হয়। একদিনের অভিযানে মোট ১০০ জন ট্রেন টিকিট ইন্সপেক্টর (টিটিই) সক্রিয় ছিলেন, যারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন ট্রেনে টিকিট যাচাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
অভিযানের সময় মোট ২,৪৪১টি টিকিট যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ২,১৫৩ জন যাত্রী টিকিটবিহীন হিসেবে শনাক্ত হন। তাদের কাছ থেকে আদায় করা হয় ৩,৩০,৮৩০ টাকা ভাড়া এবং ১,৪৬,২২৫ টাকা জরিমানা। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে রেলওয়ের একদিনের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৪,৭৭,০৫৫ টাকা।
রেলওয়ের কর্মকর্তা জানান, এই ধরনের অভিযান নিয়মিত চালানো হলে টিকিটবিহীন যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এছাড়া, অভিযানটি কেবল অর্থনৈতিক লাভের জন্য নয়, বরং ট্রেন ব্যবহারে দায়িত্ববোধ ও নিয়মিত মানদণ্ড নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিম্নে এক দিনের অভিযানের বিস্তারিত তথ্য সংক্ষেপে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| তথ্য সূচক | পরিমাণ |
|---|---|
| অভিযান পরিচালিত ট্রেন | ৭৫ |
| টিটিই (ইন্সপেক্টর) | ১০০ |
| যাচাই করা টিকিট | ২,৪৪১ |
| শনাক্ত টিকিটবিহীন যাত্রী | ২,১৫৩ |
| আদায়কৃত ভাড়া | ৩,৩০,৮৩০ টাকা |
| আদায়কৃত জরিমানা | ১,৪৬,২২৫ টাকা |
| মোট আয় | ৪,৭৭,০৫৫ টাকা |
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের অভিযান রেলযাত্রীদের মধ্যে নিয়মিত টিকিট ব্যবহারের পরিবেশ তৈরি করে এবং ট্রেন ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টিকিটবিহীন যাত্রীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে রেলওয়ে আরও বড় পরিসরে নিয়মিত অভিযান চালাবে, যাতে প্রতিটি যাত্রা নিরাপদ, সুষ্ঠু ও সুবিধাজনক হয়।
এই অভিযান কেবল রেলের অর্থনৈতিক দিককেই শক্তিশালী করে না, বরং ট্রেনভ্রমণে স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
