ভূমধ্যসাগরে অভিবাসন নৌকাডুবিতে বহু প্রাণহানি

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে নৌকাপারাপারে ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১০ দিনের মধ্যে খারাপ আবহাওয়ার কারণে একাধিক নৌকা ডুবে বহু মানুষ নিখোঁজ বা প্রাণ হারিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) সোমবারে এক বিবৃতিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, “চূড়ান্ত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, যা এই রুটকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভিবাসন করিডোরগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করছে।”

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, তিউনিসিয়ার স্ফ্যাক্স থেকে রওনা হওয়া একটি নৌকা ইতালির ল্যাম্পেডুজা দ্বীপের কাছে ডুবে যায়। উদ্ধার অভিযান শেষে যাদের উদ্ধার করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে তিনজন মারা যান। নিহতদের মধ্যে দুইজন এক বছর বয়সী যমজ শিশু এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। শিশু দুটির মা, যিনি গিনি জাতীয়, বেঁচে থাকলেও তার সন্তানেরা হাইপোথার্মিয়ার কারণে প্রাণ হারায়। বেঁচে থাকা অন্যান্য আরোহীরা জানিয়েছেন যে, তাদের সঙ্গে স্ফ্যাক্স থেকে আরও একটি নৌকা রওনা হয়েছিল, তবে সেই নৌকা আর পাওয়া যায়নি।

মাল্টার কাছাকাছি একটি বাণিজ্যিক জাহাজ বেঁচে থাকা আরোহীদের উদ্ধার করলেও সেই নৌকায় থাকা প্রায় ৫০ জনের ভাগ্য এখনও অজানা। এছাড়া লিবিয়ার তব্রুক উপকূলে পৃথক আরেকটি নৌকা ডুবির ঘটনায় অন্তত ৫১ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। আইওএম বলেছে, “সমুদ্রযাত্রার জন্য উপযুক্ত নয় এমন নৌকায় অতিরিক্ত আরোহী নিয়ে অভিবাসীদের পাচার করা গুরুতর অপরাধ। ঝড়ের সময় মানুষকে এমনভাবে সমুদ্রে পাঠানো নিন্দনীয় এবং প্রাণঘাতী।”

আইওএমের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মধ্যভূমধ্যসাগরে অন্তত ১৩৪০ অভিবাসন প্রত্যাশী মারা গেছেন। সংস্থাটি পুনরায় সতর্ক করেছে যে, অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা মানুষকে প্রাণহানির মুখে ফেলে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জরুরি নজর দেওয়া উচিত।

নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক নৌকাডুবির সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদর্শিত হলো:

তারিখ / সময়কালস্থান / উৎসনিহত / নিখোঁজবিশেষ তথ্য
১৮–২৭ জানুয়ারি ২০২৬স্ফ্যাক্স, তিউনিসিয়া–ল্যাম্পেডুজা৩ জন নিহত (২ শিশু, ১ পুরুষ)উদ্ধারকৃত মা–সন্তান; অতিরিক্ত নৌকা নিখোঁজ
১৮–২৭ জানুয়ারি ২০২৬মাল্টার কাছাকাছি৫০ জন নিখোঁজ/নিহতবাণিজ্যিক জাহাজ উদ্ধারকৃত তথ্য যাচাই করছে
১৮–২৭ জানুয়ারি ২০২৬তব্রুক, লিবিয়া৫১ জন নিহত আশঙ্কানৌকা ডুবির ঘটনা

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনযাত্রা এখন আগের তুলনায় আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইওএম জোর দিয়ে বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে সমুদ্রপথে অভিবাসনের ঝুঁকি কমানোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং মানবাধিকার রক্ষা করতে মনোযোগ দিতে হবে।