কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় দুটি স্পিডবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষে নুর নাহার নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মহেশখালী সংলগ্ন গোরকঘাটা হামিদিয়া খালের মুখ এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নুর নাহার মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের সামিরাঘোনা গ্রামের বাসিন্দা। মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার সময় ওই নারী একাই স্পিডবোটে ছিলেন, ফলে প্রাথমিকভাবে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করতে কিছুটা সময় লাগে। পরে সন্ধ্যার দিকে স্বজনরা খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পৌঁছান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গোরকঘাটা জেটিঘাট থেকে আটজন যাত্রী নিয়ে একটি স্পিডবোট কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়। স্পিডবোটটিতে স্থানীয় যাত্রীদের পাশাপাশি তিনজন পর্যটকও ছিলেন। সাগর চ্যানেলের হামিদিয়া খালের মুখে পৌঁছালে হঠাৎ করে স্পিডবোটটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। চালক মনজুর ইঞ্জিনের প্রপেলারে মাছ ধরার জাল বা অন্য কোনো বস্তু আটকে গেছে কি না, তা পরীক্ষা করতে নৌযানটি সেখানে থামান।
ঠিক সেই সময় কক্সবাজার থেকে মহেশখালীর দিকে দ্রুতগতিতে আসা আরেকটি স্পিডবোট নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্পিডবোটটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। প্রচণ্ড সংঘর্ষের ফলে নারী যাত্রীসহ কয়েকজন সাগরে ছিটকে পড়েন। আশপাশে থাকা ট্রলার ও অন্যান্য স্পিডবোটের যাত্রীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পানিতে পড়ে যাওয়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন।
গুরুতর আহত নুর নাহারকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্য যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর অন্য স্পিডবোটের যাত্রী ও চালকরা অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনাকবলিত স্পিডবোটে যাত্রীদের জন্য কোনো লাইফ জ্যাকেট ছিল না। এছাড়া মনজুর নামের একজন তরুণ, যিনি তুলনামূলকভাবে অনভিজ্ঞ বলে দাবি করা হচ্ছে, ওই স্পিডবোটটি চালাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, স্পিডবোট চলাচলে নিয়মিত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পর্যটন এলাকায় দ্রুতগতির নৌযানে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার, দক্ষ চালক নিয়োগ এবং নৌপথে গতি নিয়ন্ত্রণ জরুরি। এ ঘটনায় নৌযান পরিচালনার নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইউএনও ইমরান মাহমুদ বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিচে দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ টেবিল আকারে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দুর্ঘটনার স্থান | গোরকঘাটা হামিদিয়া খালের মুখ, মহেশখালী |
| সময় ও তারিখ | সোমবার, ২৬ জানুয়ারি; দুপুর সোয়া ১২টা |
| নিহত | নুর নাহার (১ জন) |
| আহত | কয়েকজন যাত্রী |
| নৌযানের ধরন | দুটি স্পিডবোট |
| প্রাথমিক কারণ | ইঞ্জিন বন্ধ অবস্থায় থাকা স্পিডবোটে দ্রুতগতির সংঘর্ষ |
| প্রশাসনিক পদক্ষেপ | তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান |
এই দুর্ঘটনা আবারও নৌপথে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নটি সামনে এনেছে। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর প্রয়োগ ছাড়া এমন দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন হবে।
