রাশিয়ার প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব এফসি সোচি থেকে স্প্যানিশ কোচ রবার্তো মোরেনো-র বরখাস্তের পেছনে অদ্ভুত এক কারণ প্রকাশ পেয়েছে। চার মাসের বেশি সময় ধরে রহস্যজনকভাবে আলোচিত এই ঘটনার পিছনে মূল অভিযোগটি হলো—মোরেনো তাঁর দৈনন্দিন কাজের সব ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করতেন। এতটাই নির্ভরশীল ছিলেন তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর যে ক্লাব কর্তৃপক্ষ এটিকে বরখাস্তের একটি প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
৪৮ বছর বয়সী মোরেনো স্প্যানিশ ফুটবলের সুপরিচিত নাম। ২০১৯ সালে তিনি স্বল্পকালীন সময়ের জন্য স্পেন জাতীয় দলের কোচ ছিলেন এবং এর আগে বার্সেলোনায় সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। তবে গত বছর সোচি লিগ টেবিলে তলানিতে অবস্থান করার পর তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।
সোচির সাবেক মহাপরিচালক আন্দ্রে অরলভ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মোরেনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নিজের “প্রধান হাতিয়ার” বানিয়ে ফেলেছিলেন। ম্যাচের একাদশ নির্বাচন থেকে শুরু করে কোন খেলোয়াড়কে কখন বদলি করতে হবে, এমন সব সিদ্ধান্তই তিনি চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে নিতেন। এমনকি দলের ভ্রমণসূচি পর্যন্ত AI-এর মাধ্যমে তৈরি করতেন। সোচির দীর্ঘতম ভ্রমণের মধ্যে একটি ছিল খাবারভস্ক যাত্রা। অরলভ স্মৃতিচারণ করে বলেন,
“রবার্তো বলল, সবকিছু চ্যাটজিপিটি দিয়ে পরিকল্পনা করা আছে। তবে প্রেজেন্টেশনে দেখা যায় খেলোয়াড়দের টানা ২৮ ঘণ্টা ঘুম ছাড়াই থাকতে হবে।”
যদিও পরবর্তীতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তবুও মোরেনো মূলত AI-উৎপন্ন সূচি অনুযায়ীই চলেছেন। এছাড়া তিনি দলবদল ও নতুন খেলোয়াড় বাছাই করতেও চ্যাটজিপিটির উপর নির্ভর করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, আক্রমণভাগের জন্য মোরেনো তিনজন খেলোয়াড় বিবেচনায় নেন—ভ্লাদিমির পিসারস্কি, পাভেল মেলেশিন, আর্তুর শুশেনাচেভ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কাজাখস্তানের শুশেনাচেভ দলে যুক্ত হলেও ২০২৪–২৫ মৌসুমে ১৩ ম্যাচে মাত্র ২ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করতে সক্ষম হন।
নিচের টেবিলে মোরেনোর AI-নির্ভর সিদ্ধান্ত ও তার ফলাফল সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | AI ব্যবহার | ফলাফল/মন্তব্য |
|---|---|---|
| ম্যাচ একাদশ নির্বাচন | চ্যাটজিপিটি | দল কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পায়নি |
| ভ্রমণসূচি পরিকল্পনা | চ্যাটজিপিটি | খেলোয়াড়দের টানা ২৮ ঘণ্টা না ঘুমিয়ে থাকা প্রয়োজন হয়েছিল |
| নতুন খেলোয়াড় বাছাই | চ্যাটজিপিটি + উইস্কাউট | শুশেনাচেভ যোগ হলেও ফলাফল অনুপযুক্ত |
| দলবদল কৌশল | চ্যাটজিপিটি | আক্রমণভাগে কার্যকারিতা কম ছিল |
মোরেনো লুইস এনরিকের সহকারী হিসেবে রোমা (২০১১–১২) ও বার্সেলোনায় (২০১৪–১৭) কাজ করেন এবং ২০১৮ সালে স্পেন জাতীয় দলে যোগ দেন। পরের বছর এনরিকের অনুপস্থিতিতে প্রথমে অন্তর্বর্তী, পরে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পান। তবে ২০১৯ সালের শেষ দিকে এনরিক আবার ফিরে আসার পর মোরেনোকে কোচিং স্টাফ থেকে সরিয়ে দেন এবং তাঁকে ‘অবিশ্বস্ত’ ও ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ হিসেবে অভিহিত করেন।
এফসি সোচির মহাপরিচালক অরলভের মতে,
“চ্যাটজিপিটি অবশ্যই সহায়ক, কিন্তু মোরেনো এটিকে প্রধান কাজের অংশ বানিয়ে ফেলেছিলেন। এটিই শেষ পর্যন্ত তাঁর চাকরি হারানোর প্রধান কারণ।”
মোরেনোর এই ঘটনার মাধ্যমে ফুটবল ও ক্রীড়া ব্যবস্থাপনায় AI-এর সীমা ও মানবিক বিবেচনার গুরুত্ব একবার আবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
