ঢাকা মেডিক্যালে নতুন ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের আট তলা থেকে লাফ দিয়ে নাজমীন আক্তার (২০) নামের এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে আটটার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নিহত নাজমীন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার জালাল মিয়ারের কন্যা এবং চার মাস বয়সী এক শিশুর জননী ছিলেন।

পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নাজমীন কিডনি ও অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে চিকিৎসার জন্য তিনি ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা জানান, তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও মানসিক চাপ ও দুর্বলতার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ঘটনার বিস্তারিত অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর নাজমীন তার চার মাস বয়সী কন্যাকে দেখাশোনার জন্য অন্য কাউকে দিয়ে বাথরুমের দিকে যান। পরে হাসপাতালের আট তলা বাথরুমের পাশে থাকা ফাঁকা জায়গা থেকে তিনি নিচে লাফ দেন। স্থানীয় ও হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল, তবে মানসিক চাপ এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। হাসপাতাল প্রশাসন একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণ করবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেবে।

নাজমীনের ব্যক্তিগত তথ্য সংক্ষেপে:

তথ্যবিবরণ
নামনাজমীন আক্তার
বয়স২০ বছর
জন্মস্থানগলাচিপা, পটুয়াখালী
পিতার নামজালাল মিয়া
সন্তান১ (চার মাসের কন্যা)
হাসপাতালে ভর্তি১ সপ্তাহ আগে
রোগের ধরনকিডনি সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা
মৃত্যুর সময়২৫ জানুয়ারি, রাত ৭:৪৫–৮:০০
ঘটনার স্থানঢামেক হাসপাতাল, নতুন ভবন, আট তলা

পরিবারের বরাত অনুযায়ী, নাজমীন একজন যত্নশীল মেয়ে ও মাতা ছিলেন। তারা আশা করছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে রোগীর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীর জন্য শারীরিক ও মানসিক অবস্থার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য। তারা আরও উল্লেখ করেন, মানসিক সহায়তা কেন্দ্র, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নজরদারি এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্টাফ নিয়োগের মাধ্যমে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্ত শেষে ঘটনার সঠিক কারণ প্রকাশ করা হবে এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ও রোগী সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত নজরদারি অবিলম্বে জোরদার করা হবে।