দুদকের মামলা: সালমান এফ রহমান পাচ্ছেন ৪ দিনের রিমান্ড

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে জনতা ব্যাংকের ঋণের নামে ১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার বা প্রায় ১৩৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং অর্থ পাচারের।

ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ সোমবার এই রিমান্ড আদেশ দেন। আদালতে হাজতখানায় রাখা সালমান এফ রহমানকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট এবং হাতকড়া পরিয়ে কাঠগড়ায় উপস্থিত করা হয়।

দুদকের পক্ষ থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলেও আদালত চার দিনের জন্য মঞ্জুর করেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর তরিকুল ইসলাম রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামির আইনজীবী আদালতকে জানান, ‘আমরা শুনানি করব না, নথি অনুযায়ী আদেশ দিন।’

মামলার প্রেক্ষাপট:
গত ৩ নভেম্বর দুদক সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনতা ব্যাংকের গ্রাহক স্কাইনেট অ্যাপারেলসের মাধ্যমে এক্সপার্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) সুবিধাসহ ঋণ পেয়েছেন। এই ঋণ ব্যবহার করে বেক্সিমকো গ্রুপের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে মালামাল আমদানি ও রপ্তানি দেখিয়ে কৃত্রিম বিল তৈরি করা হয়। এরপর ১ কোটি ৪৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৪০ ডলার (প্রায় ১৩৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৬২০ টাকা) আত্মসাৎ করা হয় এবং অর্থকে হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে লন্ডারিং করা হয়।

অভিযোগের সংক্ষিপ্ত তালিকা:

ক্র.আসামিঅভিযোগআত্মসাৎ অর্থ (ডলার)লক্ষ্য সংস্থা/প্রক্রিয়া
সালমান এফ রহমানক্ষমতার অপব্যবহার, ঋণ আত্মসাৎ১,৪৭,২৯,৩৪০স্কাইনেট অ্যাপারেলস, বেক্সিমকো গ্রুপ
অন্যান্য ২১ জনযোগসাজশে অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংঅন্তর্ভুক্তবেক্সিমকো গ্রুপ সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান

দুদক জানিয়েছে, আসামিরা কৃত্রিম পদ্ধতিতে ঋণ নিয়ে তা নিজেদের সুবিধার জন্য ব্যবহার করেছেন। এই মামলার মাধ্যমে সরকারি তহবিলের কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে চক্রাকার করা হয়েছিল।

সালমান এফ রহমানের রিমান্ডকালে দুদক তাঁকে আরও বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করবে, পাশাপাশি মামলার অন্যান্য আসামিদের সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

এই মামলাটি দেশের বৃহত্তম আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যা ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।