পাঞ্জাবি র্যাপ জগতের জনপ্রিয়তম নাম ব্যাডশা শুধুমাত্র সঙ্গীত চার্ট দখলের জন্যই পরিচিত নন; তার ব্যক্তিত্ব, বিলাসিতা এবং অভিনব শখও সমানভাবে আলোচিত। পার্টি অ্যান্থেম থেকে শুরু করে চার্ট-টপিং কলাবোরেশন—“কার গেই চুল্ল”, “গরমি”, “প্রপার পাটোলা” এবং “নাইনাঃ”—ব্যাডশার কেরিয়ার এক রোমাঞ্চকর যাত্রার প্রতিচ্ছবি। তবে সেই আলো-খ্যাতির পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এমন একটি আবেগ, যা একসময় তাকে সঙ্গীত থেকে দূরে সরে যাওয়ার চিন্তায় ফেলেছিল। সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ করেছেন যে একসময় তিনি সত্যিই ভাবেছিলেন, পরিচিত জীবন ছেড়ে দিয়ে অন্য কোনো দেশে নতুন জীবন শুরু করবেন।
Curly Tales-এর সঙ্গে আলাপকালে ব্যাডশা নিজের বিলাসবহুল এবং বিরল সংগ্রহের প্রতি প্রেমের কথা জানান। তার ফ্যাশন ও উচ্চমূল্যের গাড়ির প্রতি আগ্রহ যেমন সংবাদ শিরোনামে আসে, তেমনি ঘড়ি সংগ্রহের প্রতি তার আবেগ আরও গভীর। ব্যাডশা বলেন, “ঘড়ি শুধু আভূষণ নয়, এটি নিখুঁত কারুকাজ ও ধৈর্যের প্রতীক। সঠিক কৌশল, নিখুঁত সমন্বয় এবং কারিগরীর প্রতি নিবেদনই আমাকে সবচেয়ে আকৃষ্ট করে।”
তিনি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন যে বিশ্বখ্যাত ঘড়ি শিল্পের কেন্দ্র সুইজারল্যান্ডে স্থানান্তরিত হয়ে ঘড়ি নির্মাণ শেখার চিন্তাও করেছিলেন। তার মতে, ঐতিহ্যবাহী ঘড়ি নির্মাতারা বছরের পর বছর মাত্র কয়েকটি যান্ত্রিক ঘড়ি তৈরি করেন—এই ধরনের নিবেদনই প্রকৃত আগ্রহ ও ধৈর্যের নিদর্শন।
ব্যাডশার বিলাসিতার স্বাদও সংবাদ শিরোনামে প্রায়ই আসে। ২০২৫ সালে তিনি রোলস-রয়েস কালিনান (মূল্য: ১২.৪৫ কোটি টাকা) কেনার পর আলোচিত হন। এছাড়া মাইব্যাচের সঙ্গে সীমিত সংস্করণের চশমা লাইনে প্রথম ভারতীয় শিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। সম্প্রতি তিনি বিরল ‘পিংক বার্বি’ রোলেক্স পরিধান করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যার আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি টাকা এবং এটি বিশ্বের কেবল ১০টির মধ্যে একটি।
নিচের টেবিলে ব্যাডশার উল্লেখযোগ্য কিছু ঘড়ি ও তাদের মূল্যের তথ্য দেওয়া হলো:
| ঘড়ির নাম | আনুমানিক মূল্য (কোটি টাকা) | বৈশিষ্ট্য ও তথ্য |
|---|---|---|
| Greubel Forsey (হ্যান্ডমেড) | ৩.৬ | ৫০০–৭০০টি কম্পোনেন্ট, সম্পূর্ণ করতে ৮ মাস সময় লাগে |
| ‘পিংক বার্বি’ রোলেক্স | ৯ | বিশ্বের ১০টি, লিওনেল মেসিরও মালিকানাধীন |
| অন্যান্য ৮–১০ টি ঘড়ি | ২–৫ | বিরল ও কারুকাজমুখর |
ব্যাডশার ঘড়ি সংগ্রহের প্রতি ভালোবাসা ও নিখুঁত কারুকাজের প্রতি আগ্রহ প্রমাণ করে যে তার জীবন শুধুমাত্র সঙ্গীত নয়, বরং শিল্প ও বিলাসিতার প্রতি গভীর প্রতিশ্রুতিরও পরিচায়ক। প্রতিটি ঘড়ি তার ব্যক্তিত্ব, শৈলী এবং নিখুঁত কারিগরীর প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক।
