মাঠের খেলায় ধারাবাহিক সাফল্যে আবারও সমর্থকদের উচ্ছ্বসিত করছে এফসি বার্সেলোনা। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে দলটি লা লিগা ও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স উপহার দিচ্ছে। তবে মাঠের বাইরে কাতালান ক্লাবটির ভেতরের রাজনীতিতে উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। আগামী ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বার্সেলোনার গুরুত্বপূর্ণ সভাপতি নির্বাচন, যা ক্লাবের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
এই নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কাতালান উদ্যোক্তা ভিক্টর ফন্ট। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নির্বাচনে জয়ী হলে তার প্রথম ও প্রধান উদ্যোগ হবে ক্লাবের সর্বকালের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক স্থাপন করা। ফন্টের ভাষায়, “বার্সেলোনা আর মেসি আলাদা কোনো পরিচয় নয়। নির্বাচনে জিতলে প্রথম ফোন কলটি যাবে মেসির কাছেই।” তিনি দাবি করেন, মেসির সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যোগাযোগের পথ তার জানা আছে এবং সেই সম্পর্ক পুনর্গঠন করাই তার অগ্রাধিকার।
ফন্ট মনে করেন, বার্সেলোনার ইতিহাসে যেসব কিংবদন্তি ক্লাবকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিত করেছে, তাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়া ছিল একটি বড় ভুল। সেই ভুল শুধরে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিই তিনি দিচ্ছেন ভোটারদের সামনে। তার পরিকল্পনায় মেসিকে কেবল আবেগের জায়গা থেকে নয়, বরং ক্রীড়া, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক—এই তিন ক্ষেত্রেই আবার ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
বার্সেলোনার জার্সিতে লিওনেল মেসির অর্জন সংখ্যায় ও প্রভাব—দু’দিক থেকেই অতুলনীয়। দীর্ঘ ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ক্লাবটির হয়ে গোল, শিরোপা ও ব্যক্তিগত পুরস্কারে গড়ে তুলেছেন এক অনন্য অধ্যায়।
| বিষয় | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| বার্সেলোনার হয়ে গোল | ৬৭২ |
| মোট ম্যাচ | ৭৭৮ |
| জেতা শিরোপা | ৩৫ |
| ব্যালন ডি’অর (বার্সায় থাকাকালীন) | ৬ |
| ক্লাব ছাড়েন | ২০২১ |
২০২১ সালে আর্থিক সংকট ও লা লিগার বেতন কাঠামোর জটিলতার কারণে মেসিকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও ক্লাব ছাড়তে হয়। সেই বিদায় শুধু সমর্থকদের নয়, ক্লাবের পরিচয়কেও নাড়িয়ে দেয়। ভিক্টর ফন্ট বর্তমান সভাপতি জোয়ান লাপোর্তার সমালোচনা করে বলেন, মেসির মতো একজন খেলোয়াড় ও বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক হারানো বার্সেলোনার জন্য বড় ক্ষতি।
বর্তমানে মেসি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন এবং ২০২৮ সাল পর্যন্ত তার চুক্তি রয়েছে। অনেকের ধারণা, ক্যারিয়ারের শেষ সময়টা তিনি সেখানেই কাটাবেন। তবে মেসি নিজেই একাধিকবার জানিয়েছেন, অবসর জীবনে পরিবারসহ বার্সেলোনাতেই থাকার ইচ্ছা তার।
ভিক্টর ফন্টের মেসিকে ঘিরে এই প্রতিশ্রুতি সভাপতি নির্বাচনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভোটের রায়ই নির্ধারণ করবে—বার্সেলোনা কি আবারও তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে নতুন করে পথচলা শুরু করবে, নাকি এই আলোচনা শুধুই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হয়েই থাকবে।
