বাগেরহাটে এক ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত আবেদন আদালত ও কারা কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। বিষয়টি শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের বাংলোতে জমা দেওয়া হয়েছিল। জেলা প্রশাসক বিষয়টি জানার পর প্রাসঙ্গিক কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। তবে আসামি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকায় ২০১৬ সালের কারা আইন অনুযায়ী প্যারোলে মুক্তির আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, “আবেদনকারী পক্ষকে আইন অনুযায়ী সঠিক প্রক্রিয়া অবহিত করা হয়েছে। তারা বিষয়টি বুঝে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং পরে আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।”
আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের মামা মো. হেমায়েত উদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন, “বাগেরহাট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর লিখিত আবেদন করা হলেও কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, যশোরে বন্দি থাকার অবস্থায় কোনো প্যারোলে ছাড় দেয়ার এখতিয়ার তাদের নেই। তারা পরামর্শ দিয়েছেন যে, আসামি যেখানেই বন্দি আছেন, সেই কারাগারে আবেদন করতে হবে।” পরে সাদ্দাম যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে মাত্র তিন মিনিটের জন্য স্ত্রীর ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ পান।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই স্থানে তার ৯ মাস বয়সী সন্তান নাজিমের মরদেহ মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক হতাশায় স্ত্রী সন্তানকে হত্যা করার পর আত্মহত্যা করেছেন।
ঘটনার মূল ধারাবাহিকতা নিচের টেবিলে প্রদর্শিত হলো:
| ঘটনা | তারিখ ও সময় | স্থান | মন্তব্য / প্রক্রিয়া |
|---|---|---|---|
| প্যারোলে মুক্তি আবেদন জমা | ২৩ জানুয়ারি | জেলা প্রশাসকের বাংলো | আবেদন জেলা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ |
| যশোর কারাগারে মুক্তি বাতিল | ২৩ জানুয়ারি | যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার | ২০১৬ সালের কারা আইন অনুযায়ী প্যারোলে মুক্তি অনুপযুক্ত |
| মৃতদেহ উদ্ধার | ২৩ জানুয়ারি, দুপুর | সাবেকডাঙ্গা গ্রাম | স্ত্রী ঝুলন্ত, সন্তান মেঝে থেকে উদ্ধার |
| মরদেহ দেখার সময় | ২৩ জানুয়ারি, সন্ধ্যা | যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার | মাত্র ৩ মিনিট অনুমতি |
| দাফন | ২৪ জানুয়ারি, রাত | সাবেকডাঙ্গা গ্রাম | একই স্থানে স্ত্রীর ও সন্তানের মরদেহ সমাহিত |
স্থানীয় সূত্র জানায়, ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম ৫ আগস্ট গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন। বর্তমানে একাধিক মামলায় তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
শনিবার রাত ১২টার দিকে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে জানাজা শেষে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ পাশাপাশি দাফন করা হয়। স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টার দিকে মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে পৌঁছানো হয়। উপস্থিত ছিলেন ১২ থেকে ১৫ জন আত্মীয়স্বজন। সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করানো হয় এবং পরে পুনরায় বাইরে বের করা হয়।
স্থানীয়রা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং প্যারোলে মুক্তির প্রক্রিয়ার জটিলতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে সামাজিকভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে।
