বাউফলে ডাকাতের হামলায় স্কুল শিক্ষক ও কন্যা আহত

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক ঘটনার শিকার হয়েছেন এক মা ও তার কন্যা। ডাকাতি ব্যর্থ হয়ে তাদের উপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর জখম হওয়া মা ও মেয়েকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়িতে রাত প্রায় দুইটায় মা ও মেয়ের উপর হামলা চালানো হয়। আহত স্কুল শিক্ষক হোসনে আরা বেগম জানান, “ঘুমের মধ্যে হঠাৎ ঘরের ভেতর অদ্ভুত শব্দ শুনে আমি জেগে উঠি। দেখার সঙ্গে সঙ্গে দু’জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে। ডাকাতদের দেখে চিৎকার শুরু করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আমরা গুরুতর আহত হই।”

মা ও মেয়ের চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রথমে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় আহতদের। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, “আহতদের অবস্থা এখনও সংকটজনক, তবে স্থিতিশীল।”

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।”

স্থানীয়রা এই ঘটনার জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, “এ ধরনের ঘটনা এলাকায় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকবে।”

ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য ও আহতদের অবস্থার বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

তথ্য সূচকবিবরণ
ঘটনা স্থানকেশবপুর ইউনিয়ন, ১নং ওয়ার্ড, হাওলাদার বাড়ি, বাউফল, পটুয়াখালী
সময় ও তারিখবৃহস্পতিবার, রাত ২টা
আহত ব্যক্তিহোসনে আরা বেগম (শিক্ষক), তাবিয়া বেগম (১৪ বছর)
আঘাতের অবস্থাগুরুতর, পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি
আক্রান্ত কৌশলধারালো অস্ত্র দ্বারা কুপিয়ে ও মারধর
অভিযুক্তদুই অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি, এখনও আটক হয়নি
পুলিশ পদক্ষেপঘটনাস্থল পরিদর্শন, তদন্ত চলছে
স্থানীয় প্রতিক্রিয়াসাধারণ মানুষ আতঙ্কিত, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি

ঘটনাটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে।