লক্ষ্মীপুরে ডাকাতি মামলার আসামি নিহত

লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে ডাকাতি মামলার এক আসামি, আবুল বাশার (৪৫), বুধবার সকালে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। জেলা কারাগারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাশার দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুর পর তার মরদেহ সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য অপেক্ষা চলছে।

নিহত আবুল বাশার নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানি ইউনিয়নের ভবানী জীবনপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ সোহেল জানান, ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বাশার ১৬ জানুয়ারি কারাগারে প্রবেশ করেন। এর আগে তিনি বিভিন্ন সময়ে নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলায় কারাগারে ছিলেন। বুধবার সকালে বাথরুম থেকে বের হয়ে ওয়ার্ডে আসার সময় হঠাৎ তিনি বসে পড়েন। উপস্থিত অন্যান্য বন্দিরা দ্রুত তাকে কারা হাসপাতালে নেন। পরে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মেয়ে রাবেয়া বেগম অভিযোগ করেছেন, “আমার বাবা কোনো অপরাধ ছাড়াই মিথ্যা ও সাজানো মামলায় ডিবি পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে নেয়। কয়েক দিন ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়, এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা চাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক।”

চন্দ্রগঞ্জ থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৮ জানুয়ারি রাতে সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের দক্ষিণ-পূর্ব তিতারকান্দি এলাকায় আরব আলী মোল্লা বাড়িতে ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল হামলা চালায়। তারা ৬৪,০০০ টাকা, ১১ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার (মূল্য আনুমানিক ১,৫২,০০০ টাকা) এবং ৬টি মোবাইল ফোনসহ মোট ৩,০৬,৫০০ টাকার মালামাল লুট করে। ভুক্তভোগী চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১৫ জানুয়ারি আবুল বাশারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। বাকি গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছিলেন বাদশা মিয়া ও আলাউদ্দিন। এছাড়া বাশারের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, ডাকাতি ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়তথ্য
নিহতআবুল বাশার (৪৫)
মৃত্যু তারিখ২১ জানুয়ারি ২০২৬
মূল অসুস্থতাশ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ
গ্রেপ্তার তারিখ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
মামলাডাকাতি (চন্দ্রগঞ্জ থানায়), অন্যান্য মামলা নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায়
ডাকাতি ঘটনায় ক্ষতি৬৪,০০০ টাকা, ১১ আনা স্বর্ণালংকার (প্রায় ১,৫২,০০০ টাকা), ৬ মোবাইল ফোন, মোট ৩,০৬,৫০০ টাকা
গ্রেপ্তার আসামিআবুল বাশার, বাদশা মিয়া, আলাউদ্দিন

এ ঘটনা স্থানীয় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।