ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় এক নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনার শিকার হয়েছেন শফিকুল ইসলাম (৩০)। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমারগাতা ইউনিয়নের শ্যামপুর ঘোষবাড়ী (পুলিশ মোড়) এলাকায় হামলাকারীরা আকস্মিকভাবে তার ওপর ছুরিকাঘাত চালিয়ে পালিয়ে যায়। পরিবারের প্রধান ও কাশেম আলীর বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকা আতঙ্কিত। শিশু ও বৃদ্ধরা রাতের বেলা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। কেউ কেউ পুলিশি দফতরের আশেপাশে অবস্থান নিয়েও অপরাধীদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত প্রায় ১১টার দিকে শফিকুলের বাড়িতে প্রবেশ করে একদল দুর্বৃত্ত। তারা একাধিক ছুরিকাঘাত করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া নিম্নরূপ:
| নাম | বক্তব্য | পেশা/সম্পর্ক |
|---|---|---|
| আবুল হোসেন | “আমরা হত্যাকারীদের দ্রুত ধরার এবং সুষ্ঠু বিচার চাই। এ ধরনের নৃশংসতা সমাজের জন্য হুমকি।” | ভ্যানচালক |
| লাইলী আক্তার | “কোনো হত্যাই কাম্য নয়। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাজ চাই।” | স্থানীয় বাসিন্দা |
| মোছা. রেহানা | “এভাবে আমাদের মানুষ হারানো অত্যন্ত দুঃখজনক। আশা করি পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।” | স্থানীয় নারী |
পুলিশের পদক্ষেপ ও অনুসন্ধান:
মুক্তাগাছা থানার ওসি মো. লুৎফুর রহমান জানিয়েছেন, “ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।” অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তের জন্য বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং প্রাথমিকভাবে পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।”
এ ঘটনায় শ্যামপুর ঘোষবাড়ী এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ পেট্রোলিং বৃদ্ধি করেছে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে হত্যাকারীরা শাস্তির মুখোমুখি হবে।
গ্রামের মানুষ মনে করছেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রভাব দীর্ঘকাল গ্রামে প্রতিফলিত হবে। শোকের ছায়া ও আতঙ্কের মধ্যে পরিবারের এবং এলাকার মানুষ পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।
